কোরআনশিল্পে বিশ্বজয়ের অভিযাত্রায় মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অবস্থিত রেস্টো ইনস্টিটিউট আল বারাকা পবিত্র কোরআন মুদ্রণ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমন এক সৃজনশীল অভিযাত্রায় নিয়োজিত, যেখানে কোরআনের পাঠ্যের পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাদের প্রকাশিত সংস্করণগুলোতে কখনো ফিলিস্তিনের শিল্পরীতি, কখনো চীনা নকশা, আবার কখনও ইতালীয় অলঙ্করণশৈলীর অনুপ্রেরণা দেখা যায়—তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কোরআনের অবিকৃত বাণী ও চেতনা।
প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল মালয়েশিয়ার নিজস্ব ঐতিহ্য ও শিল্পধারার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের সেবা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই উদ্যোগ সীমা ছাড়িয়ে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০টি ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে কোরআনের সংস্করণ প্রকাশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা নকশা, সম্পাদনা ও উত্পাদন প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, ফলে বিশ্বব্যাপী বিতরণ সহজতর হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে কোরআনের বার্তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শেখ ড. আব্দুল লতিফ মিরাসা বলেন, চার দশকেরও বেশি আগে মালয়েশিয়ার নিজস্ব শিল্প-ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র কোরআন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ১৯৯৭ সালে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায়। প্রকাশিত হয় প্রথম মুদ্রিত ‘মালয়েশিয়ান কোরআন’ যার বিশেষত্ব ছিল যে এটি একজন দক্ষ মালয়েশিয়ান ক্যালিগ্রাফারদের হাতে লিপিবদ্ধ। এভাবে প্রথম মালয়েশিয়ান কোরআনের পাণ্ডলিপি সম্পন্ন করতে তাঁর পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। উপকরণ নির্বাচন, নকশা প্রণয়ন ও রঙ নির্ধারণ, প্রতিটি ধাপেই ছিল গভীর গবেষণা। মালয়েশিয়াজুড়ে অসংখ্য জাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁরা কোরআন অলঙ্করণের ঐতিহ্য ও নান্দনিক দিকগুলো অধ্যয়ন করেন। গবেষণার পরিধি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে প্রতিটি অলঙ্করণ ও নকশাকে কোরআনের অর্থ ও মর্মবাণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
ড. আব্দুল লতিফ মিরাসা বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ছিল না। বরং এটি ছিল তত্কালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সমর্থনে একটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ। তবে এটি মোটেও সহজ ছিল না; শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তহবিল ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় কর্মীদের পূর্ণ বেতন দেওয়াও সম্ভব হয়নি—অর্ধেক বেতনে কাজ চালাতে হয়েছে। তবু দলটি নিরুত্সাহিত হয়নি। (সূত্র : আল জাজিরা)