শুক্রবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, মাঘ ১৪ ১৪২৯, ০৫ রজব ১৪৪৪

ইসলাম

বদলী হজ্জ আদায় করার নিয়ম?

 প্রকাশিত: ১২:৪০, ২৮ নভেম্বর ২০২২

বদলী হজ্জ আদায় করার নিয়ম?

১৩৫০: প্রশ্ন
বাবার ওছিয়ত মতে বদলী হজ্বের জন্য এক ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া হল। সে টাকা নিয়ে হজ্জ, ওমরা ও কুরবানী সবই করে আসতে মনস্থ করল। জনৈক আলেম বললেন, যে খাতে টাকা দেওয়া হয়েছে তাই তোমাকে করতে হবে। খেয়াল খুশি মতো ঐ সব কিছু করা যাবে না। তদুপরি সে ওমরা, কুরবানী ও হজ্জ সবই করে এসেছে।

জানার বিষয় হল, বদলী হজ্জ আদায় হয়েছে কি না? ওমরা ও কুরবানীর টাকা বহন করবে কে? বদলী হজ্জ না হয়ে থাকলে জরিমানা দিতে হবে কি না?

উত্তর:
বদলী হজ্জের জন্য প্রেরণকারী যদি ইফরাদ হজ্বের কথা নির্দিষ্ট করে দেয় অথবা কিরান ও তামাত্তু হজ্ব করতে নিষেধ করে তখনই কেবল বদলী হজ্ব আদায়কারীর জন্য ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি হয। সেক্ষেত্রে কিরান বা তামাত্তু হজ্ব করা জায়েয হবে না। কিন্তু প্রেরণকারী অনুমতি দিলে কিংবা কোনো ধরনের হজ্বের কথা নির্দিষ্টভাবে না বললে কিরান বা তামাত্তু হজ্ব করাও জায়েয। আমাদের দেশের মানুষ যেহেতু সাধারণত তামাত্তু হজ্বই করে থাকে এবং হজ্ব বলতে তামাত্তুকেই বুঝে থাকে তাই প্রেরণকারী কিরান ও তামাত্তু হজ্ব করতে নিষেধ না করা পর্যন্ত বদলী হজ্বের অনুমতিকে তামাত্তু হজ্বের অনুমতি ধরা হবে।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তামাত্তু হজ্ব করার দ্বারা বদলী হজ্ব আদায় হয়েছে এবং আদায়কারীর উপর কোনো জরিমানা আসবে না। আর এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করাও ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য যে, তামাত্তু ও কিরানের ক্ষেত্রে উমরা ও কুরবানী হজ্ব থেকে ভিন্ন কোনো আমল নয়; বরং এগুলো হজ্বেরই অংশ। তাই ওমরা ও কুরবানীকে হজ্ব থেকে ভিন্ন আমল মনে করা এবং ওমরা ও কুরবানী করার দ্বারা বদলী হজ্বের অনুমতির বিরুদ্ধাচরণ হয়েছে বলে মনে করা ঠিক নয়।

-আলমাবসূত সারাখসী ৪/১৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১০; আলবাহরুর রায়েক ৩/১১৬

মন্তব্য করুন: