ছয় জেলার ভোটকেন্দ্রে ৬ মৃত্যু
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ভোটকেন্দ্রে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে অসুস্থবোধ করার পর। অপরজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সরাইল উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এক পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে (ভোটকেন্দ্র নং -৫১) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থবোধ করেন। সহকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে’ মুজাহিদুল মারা গেছেন বলে চিকিৎসক ধারণা করছেন।
খুলনা: খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার মধ্যে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপি বলছে, এক জামায়াত নেতা ‘ধাক্কা দেওয়ায়’ গাছের সঙ্গে লেগে আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, উত্তেজনার মধ্যে ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
মহিবুজ্জামান কচি নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি খুলনা নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, “সকালে আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই।
“তখন একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ-১ আসনের মহাদেবপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তার মৃত্যু হয় বলে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন।
মৃত ৬৫ বছর বয়সী বাবু মিয়া মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা; তার বাবার নাম হামেদ মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাবু মিয়া কেন্দ্রের সামনে থেকে ভোটার স্লিপ (টোকেন) নিয়ে ভেতরে যাওয়ার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
বাবু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া বলেন, “বাবা ভোট দিতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান।”
চট্টগ্রাম: নগরীতে ভোট দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. মনু মিয়া (৬২)। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। নগরের ব্যাটারিগলির মধুবন গলিতে তার বাড়ি।
মনু মিয়ার বড় ছেলে শাকিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে ভোট দিতে বাবা কাজীর দেউরি বালক স্কুলে যান। তিনি ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারের লাইনেও দাঁড়ান।
কিন্তু ভোট কক্ষে প্রবেশের আগে তিনি দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে যান। তাকে দ্রুত বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শাকিল বলেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন হৃদরোগে বাবার মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জহুরুল ইসলাম।
মারা যাওয়া বাশেদ আলীর বাড়ি মধ্য ওসমানেরপাড়ায়। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বাশেদ আলী ভোট দিয়ে বাইরে বের হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, “বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে জানা গেছে।”
ঢাকা: যাত্রাবাড়ীর অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতনে ভোট দিতে গিয়ে সিঁড়িতে অসুস্থ হয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আলী আবু সাঈদ সরকার (৫৩)।
তার স্ত্রী প্রীতি ইসলাম পারভীন বলেন, তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন, এর আগেও তার স্ট্রোক হয়েছিল। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে চলতেন।
প্রীতি বলেন, “সকালে আমাকে ঘুমে রেখে দরজায় তালা মেরে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যান। স্কুল ভবনের সিঁড়িতেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, তার ছেলে ফয়সাল ইসরাকসহ অন্যরা সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
আবু সাঈদের দুই ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার মানিকনগরে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার বেড়া থানার নাকালিয়া গ্রামে।