সোমবার ০৯ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২, ২০ রমজান ১৪৪৭

শিক্ষা

দিনাজপুর হাবিপ্রবি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়

 প্রকাশিত: ১৪:১৩, ৯ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুর হাবিপ্রবি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-হাবিপ্রবি’র পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২১তম ব্যাচের নির্ধারিত কোর্স ৪ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

দিনাজপুর হাবিপ্রবি জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার রাতে এই নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগামী ভূমিকা বলে সফল শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তার প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১ ৩ম ব্যাচে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অফলাইন ক্লাস শুরুর তারিখ থেকে হিসাব করলে মাত্র ৩ বছর ১১ মাস ২২ দিনের মধ্যেই ব্যাচটির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। যা এর আগে একই বিভাগে কোর্স সম্পূর্ণ ও ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত ৪ বছর ৯ মাস সময় লাগত। এবারে শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই অগ্রগামী শিক্ষা কোচ সফলভাবে সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ৬ মার্চ পদার্থ বিজ্ঞান ২১ ব্যাচের অফলাইন ক্লাস শুরু হয়। চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের (৪-২) তত্ত্বীয় চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর। ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। ফলে অফলাইন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সময় দাঁড়ায় ৩ বছর ১১ মাস ২২ দিন।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগটি গত ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বিভাগটির ১১তম ব্যাচ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি ব্যাচ অনার্স এবং ৫টি ব্যাচ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। বিভাগের অনার্স ডিগ্রির নাম বিএসসি (অনার্স) ইন ফিজিক্স। বর্তমানে বিভাগে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। যার মধ্যে ২ জন ছুটিতে রয়েছেন। ২১ ব্যাচে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৬১ জন।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার অয়ন বলেন, ‘৩ বছর ১১ মাস ২২ দিনের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশসহ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সকল শিক্ষকের আন্তরিক দিক-নির্দেশনা এবং আমাদের ব্যাচের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।’

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার শেফা বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ডিন প্রফেসর ড. মমিনুল ইসলাম স্যার শুরু থেকেই আমাদের সেশন নির্ধারিত সময়ে শেষ করার লক্ষ্য স্থির করে ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনার্স সম্পন্ন করার কথা বলে ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। সময়মতো অনার্স সম্পন্ন করায় আমরা ‘৫০তম বিসিএসসহ বিভিন্ন বড় নিয়োগে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছি।’

শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভাইস-চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সকল শিক্ষকের একাডেমিক সহায়তা ও নেতৃত্বের কারণেই আমরা এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনেক বিভাগে এখনো চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস বা পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২১তম ব্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কাছে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ডিন ড. মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ অগ্রগতি অর্জন করা যেত না। আমরা ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। করোনাকালীন দীর্ঘ বিরতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত কর্মদিবসের পাশাপাশি শুক্র ও শনিবারও অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিভাগ থেকে কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেশনজট নিরসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রেখে বিভাগকে সময়ানুবর্তী ও সেশনজটমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।