“ঢাকায় উবারের ভাড়া জালিয়াতি অভিযোগে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত, গ্রাহক ক্ষোভ চরমে”
রাজধানীতে উবারের ভাড়া অনিয়ম, অস্বচ্ছ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং গ্রাহকসেবার সীমাহীন দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে বনানী পর্যন্ত এক মোটরসাইকেল যাত্রায় প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এক ভোক্তা প্রতারণার শিকার হন। বিষয়টি তিনি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করেছেন—ট্র্যাকিং নম্বর: ০১৭১৬৩১৪৬৬৭০০০১।
ঘটনা: প্রাথমিক ১৭৮ টাকা → চূড়ান্ত ভাড়া ৩৪৮ টাকা
২৪ নভেম্বর সকাল ৮টা ৯ মিনিটে মোহাম্মদপুর থেকে বনানী বুলু ওশান টাওয়ার পর্যন্ত ১০.৩১ কিলোমিটারের যাত্রায়—
-
অ্যাপে দেখানো প্রাথমিক ভাড়া: ১৭৮ টাকা
-
গন্তব্যে পৌঁছে দেখায়: ৩৪৮.৩০ টাকা
-
পরে উবারের সমন্বিত ভাড়া: ৩৪৮.০৪ টাকা (০.২৬ টাকা রিফান্ড)
ট্রিপ ম্যাপ, লাইসেন্স প্লেট DHM-LA-50-2507, পেমেন্ট হিসাব, এবং “fare adjustment” রিসিট—সবই যাত্রীর দাবিকে স্পষ্ট করে।
যাত্রীর অভিযোগ: “উবারের সাথে কথা বলার কোনো উপায় নেই”
অভিযোগকারী জানান—
-
উবারের কার্যকর হেল্পলাইন নেই
-
অভিযোগ করলেও বট-জবাব আসে
-
প্রাথমিক ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেলেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না
উবার কেবল জানায়: “My fare was too high”—এই শিরোনামে তারা ০.২৬ টাকা সমন্বয় করেছে।
সরকারি তদন্ত শুরু
অভিযোগটি গ্রহণ করেন—
বিকাশ চন্দ্র দাস
উপপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা বিভাগীয় অফিস।
বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন।
ঢাকায় উবারের ভাড়া বিভ্রাট: নিয়মিত সমস্যা?
অনেক ব্যবহারকারীর অভিযোগ—
-
যাত্রার আগে কম ভাড়া দেখায়, শেষে দ্বিগুণ
-
বুকিং ফি, সার্ভিস চার্জ—আগে জানায় না
-
GPS ও অ্যাপ ল্যাগের কারণে দূরত্ব বেশি দেখায়
-
বাংলাদেশে কোনো হেল্পলাইন নেই
-
অভিযোগ করলে সমাধানের বদলে বট-রিপ্লাই
বিশেষজ্ঞদের মতে algorithm-based surge pricing এ ধরণের অস্পষ্টতা তৈরি করে।
অভিযোগকারীর পরিচয় অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়েছে
উক্ত ব্যক্তি—
-
স্যামসাং R&D বাংলাদেশে সিনিয়র চিফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন
-
বর্তমানে University of Scholars-এ CSE শিক্ষক
তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
যাত্রীদের ক্ষোভ: “০.২৬ টাকা রিফান্ড উপহাস ছাড়া কিছু নয়”
ঢাকার যাত্রীরা বলছেন—
-
উবার দায় স্বীকার করে না
-
রিফান্ড অতি সামান্য
-
ভাড়া অনিয়ম এখন নিত্যদিনের ঘটনা
ভোক্তা অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নিতে পারে?
তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে—
-
জরিমানা
-
শর্তসাপেক্ষ পরিচালনা
-
ভাড়া গণনা ব্যবস্থার সংশোধন
-
ক্ষতিপূরণ প্রদান
এসব নির্দেশ জারি হতে পারে।
উবারের ভাড়া অনিয়ম, গ্রাহকসেবা সংকট ও অস্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে হতাশা বাড়ছে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে—এটি উবার বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ঝাঁকুনি হতে পারে।