শেরপুরে বিপুল পরিমাণ মাদরাসার বই জব্দ
জেলা শহরের একটি ভাঙারির দোকান থেকে মাদরাসার বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যবই জব্দ করেছে প্রশাসন।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শহরের নওহাটা এলাকায় মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোর থেকে মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৮ হাজার পাঠ্য বই জব্দ করা হয়।
দোকানটির মালিক শহরের বাগরাকসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম অপু। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙারি দোকানটি সিলগালা করে রাখেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের নওহাটা এলাকায় আব্দুর রহিম অপুর মালিকানাধীন রোকেয়া আয়রন স্টোরে দীর্ঘদিন থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন বই অবৈধভাবে বেচা-কেনা হতো। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জানান।
পরে এনএসআইয়ের তথ্যে রোববার সন্ধ্যায় ঐ দোকানে অভিযান চালিয়ে এক ভ্যানগাড়ি ভর্তি ২০২৫ সালের মাদরাসার নতুন বই জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পরে দোকানের গোডাউনের ভিতর আরও বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। এদিকে পরিস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন ভাঙারি দোকানের মালিক ও কর্মচারিরা।
তবে ঐ দোকানের ভ্যানগাড়ি চালক তজি মিয়া জানান, আমি এই গোডাউনের ভ্যানগাড়ি চালাই। মালিক বইগুলো আনতে বলেছিলেন। বইগুলো সরকারি কি-না সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ জানান, গত বছর বইয়ের সংকটের কারণে একেক শিক্ষার্থীকে ৩/৪টি করে বই দেয়া হয়েছিল। অথচ এরাই নতুন বই লুকিয়ে রেখে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সদর থানার এসআই সুশান্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানগাড়িসহ নতুন বইগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোডাউন সিলগালা করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানান, খবর পেয়ে ভ্যানগাড়ির বইগুলো জব্দ করে
থানায় নেয়া হয়েছে। বইগুলো সদর উপজেলার কোনো মাদরাসার হতে পারে। ঘটনা তদন্তে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।