কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত
কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
এ হামলায় মোট আহত ৩২ জনের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও কোন দেশের নাগরিক তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলায় শনিবার হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
আহত বাংলাদেশিরা হলেন¬–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনুল ইসলাম, পাবনার রকিবুল ইসলাম, নোয়াখালীর মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার দুলাল মিয়া।
শনিবার একজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল দেশটিতে বাংলাদিশি দূতাবাস।
আহতদের খোঁজখবর নিতে রোববার ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে যান কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।
দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রদূত চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. হুসেন বলেন, আহতদের মধ্যে আমিনুলের আঘাত তুলনামূলক গুরুতর। তার পায়ে আঘাতের কারণে ‘স্কিন গ্রাফটিং’ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।
চিকিৎসকের বরাতে অন্য তিনজন ‘আশঙ্কামুক্ত’ হওয়ার তথ্য দেন তিনি।
আগের দিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে একজন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন।
শনবিার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলার পরপরই সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকেন। তখন ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
রোববার আহতদের দেখতে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আবদুল্লাহ আল-আহমদ আল-সাবাহ ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি আহত নাগরিক ও প্রবাসীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আহত ৩২ জনকে দ্রুত আল-আদান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ১৫ জনকে জাবের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের আল-আদান হাসপাতালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. আবদুল্লাহ আল-সানাদ বলেন, আহতদের শরীরে বুক, মাথা ও পেটে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে। আল-আদান হাসপাতালে পাঁচজন রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে একজনের মৃত্যু হয়।