হাসিনার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ‘দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য’ অন্য আদালতে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ জজ আদালত থেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানো হয়।
আদেশে বলা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হল।
অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী সোমবার বলেন, “শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলা বদলি হয়ে আমাদের আদালতে এসেছে। আগের আদালত সোমবার চার্জ শুনানির দিন রেখেছিলেন। আমাদের আদালতে মামলাটির আজ প্রথম দিন। আমরা মামলার নথি পেয়েছি। তবে আজ শুনানি হয়নি।”
গোলাম নবী বলেন, আগামী ৯ মার্চ এ মামলার শুনানির জন্য পরবর্তী দিন দিয়েছেন বিচারক।
গত ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।
এরপর এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ আসামির পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদনের শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। এপর্যায়ে এসে মামলা বদলির আদেশ আসে।
মামলার ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৫ জনই পলাতক রয়েছেন। সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আর এক আসামি জামিনে রয়েছে।
কারাগারে থাকা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড' এর প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, সাজ্জাদুল আনাম।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকেসহ ২৫৯ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এ মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
গত বছরের ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।”