মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬, আষাঢ় ২ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বেনজীরকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাল দুদক পর্তুগালে বেনজীরের ৫২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচ বাড়ি চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী-শ্বশুরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা পবিত্র আশুরা ২৬ জুন সংসদে ‘অশ্লীল’ উপমা, জামায়াত এমপির বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, এসপি-ওসিসহ আহত ২০, ডিসির গাড়ি ভাঙচুর নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে তরুণ নিহত এপ্রিলে সাড়ে ৩ বছরের সর্বোচ্চ আমদানি, আশা দেখছেন বিশ্লেষকরা জাল ভিসায় ইতালিতে ৩ জন, বিমান কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বাস থাকবে ডিপোতে, ছাড়ার আগে আসবে স্ট্যান্ডে: সড়কমন্ত্রী সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি জামায়াত এমপির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই ভারত থেকে ফিরে এসেছি: উপদেষ্টা জাহেদ আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করে ভুল করিনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাকলিয়ার ‘শিশু ধর্ষণ’ মামলার রায় বুধবার ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি শুক্রবারের আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রকাশ করতে পারেন ট্রাম্প

জাতীয়

বেনজীরকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাল দুদক

 প্রকাশিত: ২০:৪২, ১৬ জুন ২০২৬

বেনজীরকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাল দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এসব নথির মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কাগজপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথি রয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেসব পাঠানো হবে।”

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এনসিবির দুই কর্মকর্তা গত দুই দিন ধরে দুদকের সঙ্গে কাজ করেছেন। তারা বেনজীরের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর অবস্থা, আদালতের আদেশ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন।

প্রত্যর্পণ আবেদনের জন্য আদালতের আদেশ, এফআইআর, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, প্রযোজ্য আইনের অনুলিপি, তদন্ত-সংক্রান্ত নথি, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নথিগুলোর ইংরেজি ও আরবি অনুবাদও সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত রোববার সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীরের গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য দেন।

আবুধাবির এনসিবির পাঠানো চিঠির বরাতে সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইউএই ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯ অব ২০০৬-এর ১১ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।

“প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় ও ছবি, জাতীয়তা, ঠিকানা, প্রযোজ্য আইনের ধারা, শাস্তির বিধান, আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এসব নথি আরবি ভাষায় অনূদিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত হতে হবে।”

দুই মামলায় পরোয়ানা, এক মামলায় রেড নোটিস

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘প্রবল প্রতাপশালী’ পুলিশ কর্মকর্তা বলে পরিচিত বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বেনজিরের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিস’ জারি করে।

ইন্টারপোলের নোটিসে বলা হয়, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। তবে দুদকের অনুসন্ধানে ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন অনুযায়ী মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজিরের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক। সেই মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায়ও বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

একটি মামলায় বিচার, কয়েকটির তদন্ত চলমান

বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে আসার পর দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজিরের বিরুদ্ধেও পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমদই প্রথম কর্মকর্তা, যিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে যান তিনি।