দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চতুর্থ দিনেও উদ্ধার অভিযান চলছে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবির ঘটনায় চতুর্থ দিনেও উদ্ধার অভিযান চালু রেখেছে ফায়ার সাভিস। তবে বৈরী আবহাওয়ায় পদ্মা নদী উত্তাল থাকায় তাদের কার্যত্রম ব্যহত হচ্ছে।
শনিবার সকাল ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা চতুর্থ দিনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সোহেল রানা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দল ঘাটের পন্টুন সরিয়ে তার নীচের অংশে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পন্টুন অনত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর রেকার মেশিন এবং নদীতে টাগবোট অপেক্ষা করছে।
উপ-সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় নদী ঊত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে। ঝড়ো বাতাস কমলেই বিআইডব্লিউটিএর রেকার মেশিন দিয়ে পন্টুন অনত্র সড়িয়ে নেওয়া হবে। এরপর পন্টুনের নিচের অংশে অভিযান চালানো হবে।
তবে শনিবারও ঘাট এলাকায় নিখোঁজের সন্ধানে অপেক্ষারত কোনো স্বজনের দেখা মেলেনি।
এর আগে বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পড়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
প্রথমে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ক্রেন দিয়ে যখন বাসটি তোলা হলো তখন সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
সোহেল রানা বলেন, এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
“একজন নিখোঁজের সংবাদ আমরা পেয়েছি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত না যে তিনি ওই বাসের যাত্রী ছিলেন কিনা। তারপরও আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”