শনিবার ২৮ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১৪ ১৪৩২, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৭

ইসলাম

সারা বছরই হোক মুমিনের আমল

 প্রকাশিত: ১১:৫৯, ২৮ মার্চ ২০২৬

সারা বছরই হোক মুমিনের আমল

মুমিনের জীবনে সারাটি বছরই আমলের মাস। রমজানের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাকি ১১ মাস জীবনকে রাঙিয়ে তোলেন মুমিনরা। রমজানের ঘ্রাণে সারা বছরই সুগন্ধি ছড়াবে আমলের মাধ্যমে। মুমিনরা রমজান বিদায় দেবেন কিন্তু রমজানের ইবাদত বিদায় দেবেন না। রমজান-পরবর্তী নিজ জীবনকে আল্লাহর জন্য সঁপে দেবেন।

রমজানে রোজা রেখেছি। এখন তো রোজা রাখার সুযোগ নেই, এমনটা মনে হলেও একজন মুমিন ব্যক্তি রমজান-পরবর্তী কখন রোজা রাখলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, সেই সময় বের করে রোজা পালন করবেন।

সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার এবং চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজাসহ শাবান, জিলহজ, মহররম ও শাওয়াল মাসের রোজা রয়েছে; যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাখতেন। শাওয়াল মাসের রোজার ব্যাপারে হজরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের সব ফরজ রোজা রাখলেন, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখলেন, তিনি যেন সারা বছর ধরেই রোজা রাখলেন (সহিহ মুসলিম)।

রমজান মাসে রাতে তারাবি ও সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেছিলাম। তবে রমজান চলে যাওয়ায় তারাবি আদায় করতে না পারলেও তাহাজ্জুদ নামাজের অভ্যাসটি সারা বছরই ধরে রাখতে পারি। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আমরা তারাবির বিপরীতে রাতে অতিরিক্ত নফল ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারি। আমলকে বৃদ্ধি করা যায় অতিরিক্ত নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে। এজন্যই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। কেননা ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। এ ব্যাপারে প্রিয় নবীর সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ (মুসলিম শরিফ)।’

রমজান কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায়, ঘরে ঘরে কোরআন তেলাওয়াত হয়েছিল। রমজানে যেভাবে কোরআন তেলাওয়াতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যেক মুমিন ধরে রাখবেন। একজন মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিন সকালসন্ধ্যায় কোরআন তেলাওয়াত করবেন এটাই স্বাভাবিক। কোরআন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে না পারলেও যে কয়েকটি সুরা নামাজে পড়ি, তা নিয়মিত তেলাওয়াত করতে পারি। পৃথিবীর ভালোমন্দ সবকিছুই আমরা শিখতে পারলাম অথচ কোরআন পড়া শিখতে পারলাম না। কোরআন শিক্ষা করা খুবই জরুরি। হজরত ওসমান (রা.) বর্ণিত হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায় (বুখারি)।’

রমজানে জাকাত-ফিতরাসহ ধনীরা অধিক দানসদকা করে রমজানকে দানের মাস হিসেবে মনে করলেও রমজান ছাড়া অন্য মাসেও দান করতে নিষেধ নেই। মুমিনের নির্দিষ্ট কোনো মাস নয়, তারা যে কোনো মাসেই অন্যের বিপদ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে সহায়তা করে থাকেন। অসুস্থতা, মেয়ের বিয়ে, লেখাপড়ার খরচসহ যেকোনো বিপদে সহায়তা করেন মুমিনরা। তারা কখনোই রমজানের অপেক্ষায় থাকেন না। এজন্য আমরা যদি রমজানের শিক্ষা সারা বছর ধরে রাখতে চাই তাহলে প্রতিদিন, সপ্তাহে এক দিন কিংবা মাসিক বেতন পেয়ে সেই বেতনের কিছু অংশ দান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, যা খুব কঠিন নয়। দানে মহান আল্লাহতায়ালা খুশি হয়ে দাতার অন্তর পবিত্র করে দেন।

রমজান বিদায়ে মসজিদে অতিরিক্ত ইবাদত-বন্দেগি করায় নিষেধ নেই। একজন মুমিন ব্যক্তি সর্বদাই মসজিদমুখী থাকবেন। রমজানে যেভাবে টুপি পরিধান করে সর্বদা অজু অবস্থায় ছিলেন এখনো পবিত্র থেকে মসজিদমুখী থাকবে। মুমিন ব্যক্তি কখনোই অযথা গল্পে সময় নষ্ট করবেন না। শুধু রমজানে সীমাবদ্ধ নয় সারাটি বছরই সময় পেলেই মসজিদে বসে তাসবিহ-তাহলিল ও দরুদ পাঠে ব্যস্ত থাকবেন। মসজিদে বসে থাকলেও আল্লাহ সাওয়াব দিয়ে থাকেন। এজন্যই মসজিদকে সবচেয়ে উত্তম জায়গা বলা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান মসজিদ (সহিহ মুসলিম)

মুমিন ব্যক্তি রমজানকে বিদায় দিলেও রমজানের কোনো আমলকে বিদায় দিতে পারবে না। সেজন্য আসুন, সারাটি বছরই সেই আমলকে ধরে রাখবেন। এজন্য পাপাচার, হিংসা, গিবত থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে আল্লাহর একমাত্র বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি।