চট্টগ্রামের বাসায় বিস্ফোরণ: এক মাস পর চলে গেল শিশু স্নিগ্ধাও
চট্টগ্রামে হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে সবশেষ যে তিন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল, তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে থাকার পর বুধবার রাত ২টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যায় ১০ বছর বয়সী স্নিগ্ধা।
ওই ঘটনায় এ নিয়ে মোট ৭ জনের মৃত্যু হল। গৃহকর্তা শাখাওয়াতের পরিবারের আর কেউ রইল না।
ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানান, স্নিগ্ধার শরীরে পোড়ার মাত্রা ছিল ৩০ শতাংশ। 'একাধিক অর্গান অকেজো' হয়ে তার মৃত্যু হয়।
গৃহকর্তা শাখাওয়াতের ছোটভাই সামির আহমেদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) 'আশঙ্কাজনক অবস্থায়' এখনো চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে আনাছের ৩০ ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।
পেশায় গ্যারেজ মালিক শাখাওয়াত হোসেন পরিবার নিয়ে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ছোট ভাই সামির তার পরিবার নিয়ে ওই বাসায় উঠেছিলেন ডাক্তার দেখাতে।
রোজার মধ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ওই বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তখন সবাই সেহরি করছিলেন। বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন।
ওই ঘটনায় দগ্ধ হন মোট ৯ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে সেদিনই শাখাওয়াতের স্ত্রী ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শাখাওয়াতের ছেলে ১৬ বছর বয়সী শাওন।
সেদিন দুপুর ১২টার দিকে শাখাওয়াতের ছোটভাই ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাত পৌনে ১১টার দিকে মারা যান সামিরের স্ত্রী ৩০ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি।
গৃহকর্তা শাখাওয়াত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি শাখাওয়াতের আরেক ছোটভাই শিপন হোসাইন মারা গেলে পুরো পরিবারের শুধু তিন শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে ছিল। তাদের মধ্যে স্নিগ্ধাও চলে গেল।
২৩ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গ্যাস লিক থেকে সেই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পরে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সেখানে গ্যাস লিকের প্রমাণ মেলেনি।
তাহলে কীভাবে সেখানে আগুন লাগল জানতে চাইলে কেজিডিসিএল এর এক কর্মকর্তা গত ১৭ মার্চ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই বাসার ভাড়াটিয়া মোটর গ্যারেজের মালিক। তার বাসায় মোটরগাড়ির এসির কম্প্রেসর, গাড়ি রং করার কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম, গাড়ির ব্যাটারি পাওয়া গেছে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রুটির্পূণ বিদ্যুৎ সংযোগসহ রাসায়নিক পর্দাথ বা যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।”