দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনার এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে দুটি কমিটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
তিনি বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠন করা কমিটি তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাঁচ সদস্যের আরেক কমিটিও তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পল্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।
সুলতানা আক্তার বলেন, বাসটি ৫০ ফুট গভীরে পড়ে গিয়েছিল। প্রথমে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ক্রেন দিয়ে যখন বাসটি তোলা হলো তখন সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সবশেষ ২৬ জনের লাশ উদ্ধার হয়। একজনের লাশ ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছে। তার বাড়ি দিনাজপুরে। পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এলে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী ছাড়াও গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও ঢাকা জেলার লাশ পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, আটজন পুরুষ ও সাত শিশু। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ২৫ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনের লাশ মর্গে আছে।