শুক্রবার ২৭ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১৩ ১৪৩২, ০৮ শাওয়াল ১৪৪৭

ইসলাম

পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী

 প্রকাশিত: ০৯:৪৪, ২৭ মার্চ ২০২৬

পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী

কিছু দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করে। কিছু মৃত্যু গোটা জাতিকে অশ্রুসিক্ত করে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। তবুও বাস্তবতা মেনে নিতে হয়, মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকতে হয়, তাঁর অসীম দয়া ও উত্তম প্রতিদানের আশায় বুক বাঁধতে হয়।

সম্প্রতি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় বহু মানুষ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। এই আকস্মিক মৃত্যু গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এমন মৃত্যু কারোই কাম্য নয়। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, আরও সতর্ক হওয়া, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যারা চলে গেছেন তাদের জন্য আন্তরিক দোয়া করা।

মৃত্যু পরম সত্য। প্রতিটি প্রাণীকেই এর স্বাদ আস্বাদন করতে হয়। হয়ত একেক জনের মৃত্যুর উপলক্ষ একেক রকম হয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মৃত্যু কেবল বাহ্যিক ঘটনার মাধ্যমে বিচার করা হয় না; বরং এর অন্তরালে থাকে আল্লাহর রহস্যময় হিকমাহ ও দয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, কিছু মৃত্যু আছে যা বাহ্যিকভাবে মর্মান্তিক হলেও আখিরাতে তা সম্মান ও মর্যাদার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সহীহ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রসূল (সা.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহীদ; মহামারীতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হলো। (বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)

এই হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, মুমিনের জন্য ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’-ও নিছক দুর্ঘটনা নয়। বরং তা বিশেষ অর্থ বহন করে। যদিও বাহ্যিক ভাবে দুনিয়ার চোখে এটি এক করুণ পরিণতি, এক অসহায় সংগ্রাম, শ্বাসরুদ্ধকর অন্তীমযাত্রা। কিন্তু আখিরাতের দৃষ্টিতে এই কষ্টই হয়ে ওঠে মর্যাদার সোপান। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম করুণায় এমন মৃত্যুকে শহীদের সম্মান দান করেন। অর্থাৎ, এই কঠিন যন্ত্রণার বিনিময়ে তিনি বান্দাকে বিশেষ প্রতিদান দিতে চান।

তবে এ কথাও স্মরণীয়, এ ধরনের শহীদগণ আখিরাতে শহীদের সওয়াব পেলেও দুনিয়ার বিধানে তাদের সাধারণ মুসলিমের মতোই দাফন-কাফন করা হয়। কিন্তু তাদের জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে বিশেষ পুরস্কার, যা মানুষের কল্পনার অতীত।

এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের জন্য কেবল শোকের কারণ নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনারও উপলক্ষ। আমাদের বুঝতে হবে, জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর মৃত্যু কতটা সন্নিকটে। তাই আমাদের উচিত, আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসা, নেক আমলে মনোযোগী হওয়া এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আমাদের দেশের দায়িত্বশীলদের উচিত, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সবশেষে, যারা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, আমরা তাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ যেন তাদেরকে শহীদের মর্যাদা দান করেন, তাদের কবরকে প্রশস্ত করেন এবং জান্নাতকে তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা বানান। আর আমাদের সকলকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফিক দান করেন। আমিন।