চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটে ঈদযাত্রা শুরু, যাত্রীদের উচ্ছ্বাস
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে।
এদিকে ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। ঈদ যাত্রার প্রথম দিনে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় যেমন ছিল, তেমনই ছিল উচ্ছ্বাস। আজ পাওয়া যাচ্ছে ২৩ মার্চের ফিরতি টিকিট। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ঈদযাত্রাকে ঘিরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিন স্তরের টিকিট চেকিং কার্যক্রম শেষে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন।
আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মোহাম্মদ সাইমন ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ঈদের পর। তাই একটু আগে ভাগেই বাড়িতে চলে যাচ্ছি। ঈদের পর যেন তাড়াতাড়ি ফিরতে পারি।’
চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মাঝে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। ৯ মার্চ শেষ হয়েছে। ৩ মার্চ যাত্রীদের মাঝে ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। ১৩ মার্চ অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা যাবেন।
জানা গেছে, ভোর থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের ঈদযাত্রা শুরু হয়। ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে প্রথম ঈদযাত্রা শুরু করে পর্যটন এক্সপ্রেস। সকাল ৫টা ৪০ এ একই গন্তব্যে ছেড়ে যায় সৈকত এক্সপ্রেস। সকাল ৬টা ও ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় চট্টলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস। ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যায় বিজয় এক্সপ্রেস। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ৯টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ১১টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদ যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল গত ৩ মার্চ থেকে। এবারও ৭ দিনব্যাপী ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে গত ৯ মার্চ। গত ৩ মার্চ যাত্রীদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছিল ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হয় ঈদ যাত্রার ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২৩ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে আজ ১৩ মার্চ, ২৪ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে আগামীকাল ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৯ মার্চ। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। কোনো টিকিট রিফান্ড করা হবে না।