ভেনেজুয়েলার নেত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হঠাৎ বাতিল
ক্ষমতায় আসার পর ভেনেজুয়েলার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজের প্রথম বিদেশ সফরটি হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, কলম্বিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে সীমান্ত শহর কুকুতা যাওয়ার কথা ছিল ডেলসি রদ্রিগেজের।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এএফপি’কে জানায়, ‘সবকিছু বাতিল করা হয়েছে।’
কুকুতাতে এএফপি’র এক প্রতিবেদক দেখেন, অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
সফরটি কেন বাতিল করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
কলম্বিয়ার একজন কর্মকর্তা নিরাপত্তা ঝুঁকির খবরের কথা স্বীকার করলেও এই হুমকি কলম্বিয়া নাকি ভেনেজুয়েলা থেকে এসেছে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।
তবে একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা নেই।’
কুকুতা সীমান্ত এলাকাটি মাদক পাচারে জড়িত বামপন্থি গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। মাদুরোকে বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে রাখা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রদ্রিগেজ কট্টরপন্থিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল শিল্পকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। এছাড়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের সীমান্ত থেকে হটিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে হিমশীতল সম্পর্কের বরফ গলাতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বৈঠকটি যে কতটা আকস্মিকভাবে বাতিল হয়েছে তার প্রমাণ মেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়। বৃহস্পতিবারও তিনি এক ফোন কলে প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে এই বৈঠকের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা ভিসেন্তে তোরিজোস মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো সাবেক এই দুই শত্রুকে ‘কার্যকর মিত্রে’ পরিণত করতে এই বৈঠকের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে রদ্রিগেজের মিত্ররা জয়ী হলেও কলম্বিয়া সেই নির্বাচনের বৈধতা স্বীকার করেনি।
সফর বাতিলের খবরে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে। দুই দেশের সীমান্ত পারাপারে নিয়োজিত জাইরো জাইমেস (৬৩) বলেন, ‘এখানকার সব সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও বন্ধুত্ব খুবই জরুরি।’
ওয়াশিংটনের চাপে মাদক চোরাচালান ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায় জড়িত বামপন্থি গেরিলা গোষ্ঠী ‘ইএলএন’-এর মতো সংগঠনগুলোকে দমনে দুই পক্ষকে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো নিজেও একজন সাবেক গেরিলা। তিনি তার ‘টোটাল পিস’ বা পূর্ণাঙ্গ শান্তি পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমঝোতা পছন্দ করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যে তাকে সামরিক ব্যবস্থা নিতে হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাচার রুট নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ে কুকুতা এলাকাটি অনেক বেশি সহিংস হয়ে উঠেছে।