কেমন হচ্ছে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা
বিপুল বিজয়ের পর চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবার দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত হচ্ছে দলটি; বাংলাদেশ পাচ্ছে তিন দশক পর নতুন প্রধানমন্ত্রী। সবার নজর এখন তার প্রথম মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন সেই দিকে।
এ নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল ও জল্পনার মধ্যে সেই তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন হবু প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীদের সংখ্যা ৪০ জনের আশপাশে থাকার তথ্য মিলেছে; যাদের নিয়ে চব্বিশের আন্দোলনের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে দেশ গড়তে চান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে মঙ্গলবার।
এর একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ইঙ্গিত মিলেছে শুরুতে আগের চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট মন্ত্রিসভা হচ্ছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে মন্ত্রিসভা ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে। তবে কোনো নেতা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের আবাসনের জন্যও সমানসংখ্যক বাসা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এ সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন আর কে থাকবেন না- তা শুধু প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। ফলে এখনই কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কারা মন্ত্রিসভায় যাচ্ছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিডিনিউজ টায়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার গঠন, সরকারে কে কোন দায়িত্বে থাকবে এসব নিয়ে দলের চেয়ারম্যান কাজ করছেন। আমি কোনও নামের বিষয়ে জানতে পারিনি।”
সোমবার বিকাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কোনো ফোন কলও আসেনি, যোগ করেন তিনি।
সরাসরি দলের ফোরামে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন কিংবা জাতীয় সরকার গঠন বা শরিকদের কারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন তা নিয়ে আলোচনা না হওয়ার তথ্য দিচ্ছেন নেতারা।
তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সরকার গঠন নিয়ে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান এবার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে সম্পৃক্ত করবেন বলে দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ দায়িত্বে নজরুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে।
দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পদে দলের একজন যুগ্ম মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
জাতীয় সরকার হচ্ছে?
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টি জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমান নতুন সরকারপ্রধান হচ্ছেন। বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসছেন তিনি, ঠিক যেমন একসময় তার বাবা-মা দিয়েছিলেন।
তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি, যার হাত ধরে ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মা খালেদা জিয়া তিনবারে ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। চার দশকের বেশি সময় তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দুই দশক পর আবার চতুর্থবার দেশ পরিচালনায় আসছে ৪৮ বছরের পুরনো দলটি। বাবা-মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম দায়িত্বে তিনি জাতীয় সরকার গঠন করবেন কি না সেই আলোচনাও রয়েছে।
নির্বাচিতদের সঙ্গে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজন জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। এ কোটায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর কেউ যুক্ত হচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করছেন না কেউ।
তবে জোটের হয়ে জয়ী সংসদ সদস্যদের কারও কারও মন্ত্রিসভায় থাকার আলোচনা জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
তার দল ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের কথা একাধিকবার বলে এলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য জাতীয় সরকার নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর মেলেনি।
সোমবার বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএনপির সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”
আগের দিন রোববার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হয়েছে সাইফুল হকের। স্স্ত্রীক সাক্ষাতে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ভালোমন্দ নিয়ে পর্যালোচনা হলেও নতুন সরকার নিয়ে কোনও আলাপ হয়নি বলে তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনায় কারা
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সবশেষ সরকার গঠন করে বিএনপি। এবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তার ছেলে তারেক রহমান।
মায়ের আগের মন্ত্রিসভাগুলোতে থাকা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে যাদের নিয়ে বির্তক নেই কিংবা কম এমন নেতাদের এবার দেখা যেতে পারে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, এমন তথ্য দিচ্ছেন নেতারা।
তারা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের ভিন্ন বাস্তবতা মাথায় রেখে মন্ত্রিসভা সাজাচ্ছেন দলের প্রধান। পুরনোদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ থাকতে যাচ্ছে তাতে।
বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, সম্ভাব্য কারও কারও নাম যাচাই-বাছাইয়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও করছেন দলের প্রধান।
নতুন সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন- এমন প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আগামীকালই (মঙ্গলবার) সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করবেন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু থাকছেন মন্ত্রিসভায়। তারা স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও সম্প্রচার, গণপূর্ত, বস্ত্র ও পাট, বিমান ও পর্যটন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা বলেন, মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্ব নিতে চাইছেন না। দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি সংসদে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান।
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে মির্জা ফখরুল মন্তব্য করতে চাননি।
অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, জনপ্রশাসন ও শিল্পের দায়িত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর (টেকনোক্র্যাট কোটা) ও সদস্য রেজা কিবরিয়াকে দেখা যেতে পারে বলে নাম এসেছে।
আইন, সড়ক পরিবহন, কৃষি, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশাদ জমির, নির্বাহী কমিটির সদস্য এহসানুল হক মিলনের নাম রয়েছে আলোচনায়।
অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছে স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডেএম জাহিদ হাসেন, সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
ইতোমধ্যে দলের দায়িত্বশীলদের তরফে জানা গেছে, বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ে তরুণ মুখ থাকতে পারেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় ‘মায়ের ডাকের’ সংগঠক ও দলের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নাম এসেছে আলোচনায়।
ধর্ম, পানিসম্পদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রাণী ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুকের নাম এসেছে আলোচনায়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে চেয়ারম্যানের সাবেক উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের নাম আলোচনা হচ্ছে।
সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তিনি পাননি।
মন্ত্রিসভায় জোটের শরিকদের কারও কারও থাকার সম্ভাবনা নিয়ে খবর এসেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে রাজপথে থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলছেন, সম্ভাব্য তালিকায় বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএমের সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (পরে বিএনপিতে যোগ দেন) ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর জায়গা পাবেন।
তাদের রেলওয়ে, নৌ পরিবহন, ভূমি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে জানান বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ।
সোমবার সন্ধ্যায় ববি হাজ্জাজের বিষয়ে ‘আলোচনা চলছে’ বলে তথ্য দেন এক কর্মকর্তা। তবে ববি হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ‘মিটিংয়ে’ বলে জানান তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।
টেকনোক্যাট কোটায় বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাইফুল হক বা নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, তানিয়া রব থাকবেন কিনা- সেই আলোচনা হলেও নিশ্চিত হতে পারেননি কোনও নেতা।
শরিকদের সরকারে থাকার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দলের ফোরামে আলোচনা হওয়ার আগে এ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
বিএনপির আরেক নেতা বলেন, অভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) যুক্ত রাখার বিষয়ে ভাবছেন দলের প্রধান। এর অংশ হিসেবে দলটির নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যদের মধ্যে কাউকে সংসদের কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
কে হচ্ছেন সংসদ উপনেতা
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, সংসদকে সক্রিয় করে জবাবদিহিমূলক সরকার চালাতে চান তারেক রহমান।
মন্ত্রী কারা হচ্ছে সেই আলোচনার মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদে জবাবদিহি করতে হবে বলে ইতিমধ্যে দলীয় ফোরামে বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে সংসদকে সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সংসদ উপনেতার পদে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে তাকে সক্রিয় করতে চান দলের প্রধান।
এ দায়িত্বে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নাম শোনা যাচ্ছে।
২০০১ সালে সরকার গঠনের পর অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সংসদ উপনেতা করেছিলেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আরও কাউকে এ দায়িত্ব দেননি বিএনপি চেয়ারপারসন।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা ভালো বক্তব্য দিতে পারেন তারেক রহমানের নির্দেশনায় তাদের তালিকা করার কথা বলেছেন এক নেতা।
এছাড়া স্পিকার হিসেবে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের নাম আলোচনায় এসেছে।
সম্ভাব্য মন্ত্রীদের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি পদে দলের অভিজ্ঞ সদস্যদের একটি তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।