সংবিধান সংস্কার পরিষদ: বিএনপি শপথ না নেওয়ায় বেঁকে বসেছে জামায়াত
নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বেঁকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা আদৌ শপথ নেবেন কি না, সেই সিদ্ধঅন্ত এখন নেবেন।
আর দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুলাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, "জটিলতা আছে, জানবেন।"
পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, “সংসদ ভবনেই আছি আমরা। শপথের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা মিটিংয়ে আছি।”
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা “কোনো শপথই নেবেন না।”
পরে জামায়াত এবং তাদের জোটসঙ্গী দলগুলোর নির্বাচিতদের সংসদে দেখা গেলেও তাদের শপথ অনুষ্ঠান এখনো শুরু হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির নবনির্বাচিতরা সে অনুযায়ী সংসদের শপথ কক্ষে উপস্থিত হন। সাড়ে ১০টায় তাদের সামনে মাইক নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিচ্ছেন না।
হাতে ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।
“এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে।
পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
এরপর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত তা শুরু হয়নি।