মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৫ ১৪৩২, ২৯ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

 প্রকাশিত: ১১:৫৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

মঙ্গলবার সকালে শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্ত জানান।

হাতে ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।

“এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে।

পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।

শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ আর বাম পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল।

সামনের সারিতে বসেছিলেন বাম থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এরপরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাঝখানে তারেক রহমান, তার পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম, এরপরে মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সবার ডানে আন্দালিভ রহমান পার্থ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন, “সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”

এরপর সবাই শপথপত্রে নিজেদের আসনের নাম লিখে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।

এর আগে সোমবার সংসদ সচিবালয় জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।

তবে বিএনপি বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পরে বিধান হলে তখন তারা এ শপথ নেবেন।