গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডির ৫ ও স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
আর সাফিকুরের স্ত্রী বিথীর সাতদিন এবং অপর গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়ার আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন মঙ্গলবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ডিএমসি) ফাহমিদা আক্তার রিংকিসহ কয়েকজন আইনজীবী সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিদের পক্ষে এ কে আজাদ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি সুফিয়া বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রোববার ঠিক করেন। বৃহস্পতিবার আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে তার শুনানির দিনও রাখা হয় রোববার।
সুফিয়া বেগমকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে বিচারক এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির রিমান্ড আবেদনের কারণ জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল মিয়া বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”
এরপর বিচারক বলেন, “এজাহারনামীয় আসামির রিমান্ড আবেদন নয় কেন?”
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল বলেন, “তথ্যটা সহজে পাওয়া যাবে, এজন্য এ আসামির রিমান্ড আবেদন। ধাপে ধাপে অন্যদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।”
তখন বিচারক বলেন, “প্রথমে একজন, পরে আরেক জনের রিমান্ড আবেদন করবেন? সবার এক সাথে আবেদন দেন। শুনানি একসাথে হবে।"
এ অবস্থায় আসামিদের পক্ষে জামিন শুনানি করেননি তাদের আইনজীবী জাকির হোসেন।
পরে বিকালে অপর তিন আসামিরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত সব আসামির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার শুনানির দিন রাখেন।
গোলাম মোস্তফার মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।
মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।
এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।
পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।