রোববার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৬ ১৪৩২, ২০ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকের পর হন্ডুরাসের নতুন নেতার প্রশংসায় ট্রাম্প ঋণখেলাপি-ব্যাংকডাকাতদের নিয়ে দুর্নীতি দমন করবেন, হাস্যকর : জামায়াত আমির বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিতে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৮ ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের মামলার রায় পেছাল টিআইবির প্রতিবেদন গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে : বলছে সরকার জামায়াতসহ ৩০টি দল কোনো নারীকে প্রার্থিতা দেয়নি: টিআইবি চট্টগ্রাম বন্দর সচল আছে, দাবি চেয়ারম্যানের ফের লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর রাজধানীতে আজ ৬ জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুদানে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ২৪ বেসামরিক নিহত

জাতীয়

বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিতে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি

 প্রকাশিত: ১৪:২২, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিতে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি

ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চিঠি দিয়েছে দেশের চার ব্যবসায়ী সংগঠন।

প্রধান উপদেষ্টাকে শনিবার পাঠানো ওই চিঠিতে রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) ও বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বন্দর অচল হয়ে পড়ায় তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত অপূরণীয় ‘ক্ষতির সম্মুখীন হবে’।

জাতীয় নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট নিরসন করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাগিদ দিয়েছে সংগঠনগুলো।

চিঠিতে বলা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যে ‘সাফল্য দেখিয়েছে, তা সর্বমহলে সমাদৃত’।

প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, “বিশেষ করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপনার অঙ্গীকার আজ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে।

“অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যে গণতান্ত্রিক উৎসবের আমেজ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, আমরা তার প্রতি পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করছি।’’

একইসঙ্গে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে ‘একটি গভীর অচলাবস্থার’ উপক্রম হয়েছে জানিয়ে তাতে বলা হয়েছে, “চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ডাক আমাদের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দরে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সম্মুখ সারির সহযোদ্ধা।

“তাই নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনকারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।’’

বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় পুরো বন্দর ‘অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে’ বলেও দাবি করেছে সংগঠন চারটি।

বন্দর সচল না হওয়ায় সম্ভ্যাব্য ক্ষতি সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়ে সংগঠনগুলো বলেছে, দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সকল প্রধান রপ্তানি খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

• আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে।

• বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝা।

• এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে কর্মচারি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে আমরা মনে করি।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধান চেয়েছে সংগঠনগুলো।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার থেকে ফের লাগাতার ধর্মঘটে নেমেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।

সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন জেটিতে ১২টি জাহাজ আটকা পড়েছে।তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।