ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের মামলার রায় পেছাল
সাত বছর আগে ঢাকার ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে গেছে।
রোববার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ রায় ঘোষণার তারিখ ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় বিচারক তাওহীদা আক্তার ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান আসাদ।
আসামিরা হলেন—আফরোজা বেগমের বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়া এবং বাসাটিতে তখন সদ্য কাজে যোগ দেওয়া সুরভী আক্তার নাহিদ।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডে ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়।
আফরোজা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, আর তার উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তিনিই এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান।
২০২২ সালের ১১ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
দিলরুবা সুলতান রুবা মামলায় অভিযোগ করেন, তিনি ও তার মা আফরোজা বেগম পাশাপাশি বসবাস করতেন। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দিলরুবা তার কাজের মেয়েকে মায়ের ফ্ল্যাটে কাজের জন্য পাঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিলরুবা তার মাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এজন্য দিলরুবা তার বাসার কাজের ছেলে রিয়াজকে মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠান। রিয়াজ সেখানে গিয়ে কলিং বেল চাপেন এবং ডাকাডাকি করে কোনো শব্দ না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিলে তা খোলা দেখতে পান। রিয়াজ আফরোজা বেগমকে ডাইনিং রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দৌড়ে গিয়ে দিলরুবাকে জানান। দিলরুবা দৌড়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, ডাইনিং রুমের মেঝেতে আফরোজা বেগম পড়ে আছেন এবং পাশের গেস্টরুমে কাজের মেয়ে দিতির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।