বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২২ ১৪৩২, ১৬ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

যাদের শুরু ‘অনৈতিকতায়’, তারা সৎ শাসন দেবে কীভাবে: তারেক রহমান ফরিদপুরকে বিভাগ করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান ভোটের পরিবেশ ‘তুলনামূলক ভালো আছে’: ইসি মাছউদ জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ১৭ মাসে সহিংসতায় নিহত ১৯৫ ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার, শরীয়াহকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি একটা গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে: জামায়াত আমির নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান ‘রাজনীতি করেন, কিন্তু মিথ্যা বলবেন না’, জামায়াতের উদ্দেশে ফখরুল নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ: গুলিতে কিশোরের মৃত্যু রাফা খোলার তিন দিন পর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ২০০ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত প্রার্থীর মৃত্যু, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত জামায়াত আমিরের এক্স `হ্যাকড`: বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক এনসিটি ইজারা ইস্যুতে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, অচলাবস্থা তেল বিক্রির ৫০ কোটি ডলার ভেনেজুয়েলাকে ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইসলাম

রমজানের মুয়াজ্জিন পবিত্রতম যে রাত

 প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানের মুয়াজ্জিন পবিত্রতম যে রাত

লাইলাতুল বরাত মাহে রমজানের মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত মুমিনদের কাছে। শাবানকে বলা হয় রমজানের প্রস্তুতিমূলক মাস। এ মাসেই পবিত্র কাবা মুসলমানদের কেবলা হিসেবে নির্ধারণ হয়। মাহে রমজানের প্রস্তুতিমূলক মাস হিসেবে মুসলমানের কাছে শাবান অত্যন্ত বরকতময় বলে বিবেচিত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি, যত বেশি রোজা তিনি শাবানে রাখতেন।’ হঠাৎ রমজানে রোজা রাখতে শুরু করলে উম্মতের জন্য কষ্ট হতে পারে, সেজন্য উম্মতের কষ্ট লাঘবে নিজে রোজা রেখেই রসুল (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন, ‘আমি শাবান মাসে বেশি রোজা রাখছি। তোমরা আমাকে অনুসরণ করে এ মাসে বেশি বেশি রোজা রাখো, তাহলে রমজানের ফরজ রোজা রাখতে তোমাদের কষ্ট হবে না।’

পবিত্র রমজানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মুসলমানের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে রোজা রাখা ফরজ নয়। তবে নফল রোজা রাখার অনেক ফজিলত রয়েছে। রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি ফটক রয়েছে। কিয়ামত দিবসে এতে রোজাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া কেউ এতে প্রবেশ করবে না। আহ্বান করা হবে রোজাদাররা কোথায়? তারা প্রবেশ করার পর ওই ফটক বন্ধ করা হবে। এরপর আর কেউ প্রবেশ করবে না।’ (বোখারি, মুসলিম) অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, ‘আল্লাহর জন্য কেউ এক দিন রোজা পালন করলে এর বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে তাকে সত্তর বছর দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।’ (বোখারি, মুসলিম)

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রসুল (সা.) এমন ধারাবাহিকভাবে রোজা রেখে যেতেন যে আমরা ধারণা করতাম তিনি আর রোজা বিরতি দেবেন না। আবার বিরতি দিলে আমরা ধারণা করতাম হয়তো আর রোজা রাখবেন না। এক মাস রমজান ছাড়া পূর্ণ মাস রোজা পালন করতে আমি রসুল (সা.)-কে দেখিনি। দেখিনি তাকে শাবান অপেক্ষা অন্য কোনো মাসে অধিক পরিমাণে রোজা পালন করতেও।’(নাসায়ি : ২১৭৬)।

অন্য হাদিসে তিনি বর্ণনা করেন, ‘নবীজি (সা.) শাবানের চেয়ে বেশি রোজা কোনো মাসে রাখতেন না। তিনি পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন এবং বলতেন তোমাদের মধ্যে যতটুক সামর্থ্য আছে ততটুকু আমল করো। কারণ তোমরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়া পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা প্রতিদান বন্ধ করেন না। নবীজি (সা.)-এর কাছে বেশি পছন্দনীয় নামাজ হলো যা নিয়মিত করা হতো, যদিও তা পরিমাণে স্বল্প। আর তিনি যখন কোনো নফল নামাজ আদায় করতেন এর ধারাবাহিকতা তিনি অব্যাহত রাখতেন।’ (বোখারি)

রসুল (সা.) মাহে রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ শাবানের চাঁদের হিসাব রাখার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘তোমরা রমজানের সম্মানার্থে শাবানের চাঁদের হিসাব গণনা করে রাখো।’ (তিরমিজি) রজব ও শাবান আগমন করলেই রসুল (সা.) এ দোয়াটি বেশি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবানকে বরকতময় করে দিন এবং আমাদের হায়াত রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (নাসায়ি)

আবুবকর বলখি (রহ.) বলেন, রজব ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মেঘমালার মতো, আর রমজান হলো বৃষ্টির মতো। (লাতায়েফুল মা’আরিফ) রমজানে দিনে রোজা ও রাতে জাগরণ করে যেন ইবাদত করা যায় তার জন্য রমজানের আগে লাইলাতুল বরাতে জাগরণ ও দিনে রোজা রাখাকে পছন্দ করেছেন। যাতে রমজানের রাতদিনের ইবাদতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। রমজান শুরু হওয়ার আগে শাবানে বেশি বেশি রোজা ও অন্য ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘লাইলাতুল বরাত রাতে আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রতি নজর দেন (যারা ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তওবা করেন) সবাইকে মাফ করে দেন একমাত্র মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া।’ লাইলাতুল বরাতে ক্ষমা প্রাপ্তির মাধ্যমে রমজানের রহমত, মাগফিরাত, নাজাত পাওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত হতে হবে। রসুল (সা.) লাইলাতুল বরাতে বেশি বেশি ইবাদত ও পরদিন রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। (মিশকাত)