শবে বরাতে ৩টি কাজ ভুলেও করবেন না
শবে বরাত ফারসি শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত, ‘বরাত’ অর্থ নাজাত বা মুক্তি। দুই শব্দ মিলে অর্থ হয় মুক্তির রজনী। শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা অনুগত বান্দাদের ক্ষমা করে দেন—তাই রাতটি মুক্তির রজনী নামে খ্যাত। আরবি পরিভাষায় একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা অর্ধ শাবানের রাত বলা হয়।
এই রাতের ফজিলত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
শবে বরাতে ৩টি কাজ থেকে বিরত থাকুন
শবে বরাতের তিনটি গুনাহ থেকে বিরত না থাকলে ফজিলত লাভ হবে না। উপরন্তু গুনাহ হবে। সেগুলো হলো—
১. অন্তরে কারো প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন না। অর্থাৎ মন থেকে হিংসা দূর করে দিতে হবে। কেননা শবে বরাতে ক্ষমা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো- অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া। উল্লেখিত প্রথম হাদিসেই এ সম্পর্কে বলা হয়েছে। বিশেষত উম্মাহর পূর্বসূরি ব্যক্তিদের সম্পর্কে অন্তর পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা অপরিহার্য, যাতে রহমত ও মাগফেরাতের সাধারণ সময়গুলোতে বঞ্চিত না হতে হয়।’ (লাতাইফুল মাআরিফ পৃ. ১৫৫-১৫৬)
২. বিদআত থেকে সাবধান থাকতে হবে। শবে বরাতের বিশেষ নিয়মে কোনো আমলের কথা কোরআন-হাদিস ও সাহাবিদের জীবনীতে কোথাও নেই। তাই নব-আবিষ্কৃত বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। না হয় শবে বরাতে ক্ষমা লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু শবে-বরাতের রাতে না, বিদআত সবসময় বর্জনীয়। বিদআতের বিরুদ্ধে মহানবী (স.) অত্যন্ত কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো, (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত সব কিছুই বিদআত। প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৩৫; নাসায়ি: ১৫৬০)
৩. অসর্কতায় যেন ছোট-বড় শিরক না হয়। বড় শিরক সম্পর্কে আমাদের মোটামুটি ধারণা থাকলেও ছোট শিরক সম্পর্কে আমরা অনেকে বেখবর। যেমন রিয়া বা লোক দেখানো আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি যে বিষয়টি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তা হলো শিরকে আসগর (ছোট শিরক)। সাহাবিরা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! শিরকে আসগর কী? তিনি বলেন, রিয়া বা লোক দেখানো আমল। কেয়ামতের দিন যখন মানুষকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে, তখন মহান আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাদের দেখাতে তাদের কাছে যাও, দেখো তাদের কাছে তোমাদের পুরস্কার পাও কি না!’’ (আহমদ, আল-মুসনাদ ৫/৪২৮-৪২৯; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২। হাদিসের মান- সহিহ)
হাদিসে এটিকে গুপ্ত শিরক বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে। নামাজের মধ্যেও মানুষ এই শিরক করতে পারে। রাসুল (স.) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দেবো, যা তোমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভয়ঙ্কর। সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, গোপন শিরক। যেমন, কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ছিলো, অতঃপর কেউ তাকে দেখছে বলে সে নামাজকে খুব সুন্দর করে পড়তে শুরু করলো’। (ইবনু মাজাহ: ৪২৭৯; আহমদ: ৩/৩০; হাকিম: ৪/৩২৯)