নারীর ‘পরিচালক’ পুরুষ, তাই শীর্ষ পদ ‘মুখ্য নয়’ জামায়াতের নারীদের কাছে
পুরুষরা নারীদের ‘পরিচালক’ এবং এ কারণে দলের শীর্ষ পদে যাওয়াটা নিজেদের জন্য ‘মুখ্য’ মনে করে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।
রোববার নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এমন যুক্তি তুলে ধরে তারা।
এদিন বিকালে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে করে, যেখানে দলটির মহিলা বিভাগের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
বৈঠকে মহিলা বিভাগের তরফে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে তারা নির্বাচনের প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত হাবিবা চৌধুরী।
হাবিবা চৌধুরী বলেন, “দেশের মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। বিগত ১৫-১৬ বছর আমাদের মা-বোনেরা ভোট দিতে পারেননি।
“এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র আমরা কমিশনে জমা দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নারীরা অবলা নয়, আমরা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।"
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নেসা সিদ্দিকা বলেন, "জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন। আমরা কোরআনের বিধান মেনে চলি।
“আল্লাহ তায়ালা পুরুষকে নারীর ‘পরিচালক’ বানিয়েছেন। তাই শীর্ষ পদে (আমির) নারী আসার বিষয়টি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।”
তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কি বেড়েছে? আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা মানবিক হবে।"
জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে এবং স্থানীয় নির্বাচনেও তারা বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।