ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৫৩

সাংবাদিকতায় যেভাবে ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯  

কয়েকটি বড় বার্তাকক্ষ এবং সংবাদ সংস্থা কিছু দিনের জন্য খেলাধুলা, আবহাওয়া, শেয়ারবাজারের গতিবিধি এবং করপোরেট পারফরম্যান্সের মতো খবরাখবর তৈরির ভার কম্পিউটারের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হলো, যথার্থতা ও ব্যাপকতার বিচারে মেশিন, কিছু সাংবাদিকের চেয়ে ভালো কাজ করেছে। অনেক সাংবাদিক যেসব ক্ষেত্রে প্রায়ই একটি মাত্র উৎসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করেন, সেখানে সফটওয়্যার বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য খুঁজে এনে, সেই তথ্যের ধরন ও প্রবণতা বুঝে, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ব্যবহার করে সেই প্রবণতাকে প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে মিলিয়ে – বিশেষণ, উপাধি ও রূপকসহ আধুনিক বাক্য গঠন করতে পারে। রোবটও এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ফুটবল ম্যাচে গ্যালারি ভরা দর্শকের আবেগ নিয়ে প্রাণবন্ত রিপোর্ট করতে সক্ষম।

এ কারণে সাংবাদিকতা পেশার অনেকেই মনে করেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন তাদের চাকরির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অথচ, ভয় পাওয়ার পরিবর্তে, সাংবাদিকরা যদি এআইকে আলিঙ্গন করেন, ক্রমশ জটিল, বৈশ্বিক এবং তথ্য-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠা এই বিশ্বকে আরো ভালোভাবে কভার করার ক্ষেত্রে, এটি বরং তাদের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। 

সাংবাদিকদের রিপোর্টিং, সৃজনশীলতা এবং পাঠক টানার ক্ষমতায় বাড়তি শক্তি জোগাতে পারে বুদ্ধিমান মেশিন। ডেটার ধরন বোঝা এবং সময়ের সঙ্গে তার গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, তা ‘শেখার’ ক্ষমতা রয়েছে অ্যালগরিদমের। আর এই ক্ষমতা অভাবনীয় গতিতে কনটেন্ট তৈরি, সাজানো এবং বাছাইয়ে সহায়তা করে সাংবাদিকদের। শুধু তথ্যকে সাজিয়ে এটি খুঁজে দিতে পারে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মিসিং লিংক বা অজানা যোগসূত্র। এআই যেমন সহজে তথ্যের ট্রেন্ড শনাক্ত করে, তেমনি লাখ লাখ ডেটা থেকে চিহ্নিত করতে পারে ঠিক আসল জায়গাটিকে। আর এভাবেই এটি জন্ম দিতে পারে একটি দুর্দান্ত স্কুপের। ধরা যাক, কোনো সংবাদমাধ্যম সরকারি কেনাকাটার সব তথ্য ক্রমাগত একটি অ্যালগরিদমে যুক্ত করছে। সেই অ্যালগরিদম যদি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারে, তাহলে যে-কোনো দেশের সাংবাদিকই সরকারি ক্রয়ে কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে সে সম্পর্কে অনেক সূত্র পেতে পারেন। 

বুদ্ধিমান কম্পিউটার যে শুধু প্রচুর ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, তা নয়। এটি অনেক মানুষের ভিড় থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তার সত্যতাও যাচাই করতে পরে। টাউ সেন্টার রিপোর্ট ২০১৭ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মিডিয়া আউটলেট ইতিমধ্যেই এআইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট চেক বা সত্যতা যাচাই করছে। যেমন, রয়টার্স। সামাজিক মাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ ট্র্যাক করতে এবং টুইটের সত্যতা যাচাই করতে তারা নিউজ ট্রেসার ব্যবহার করছে। ব্রাজিলের সাংবাদিক ও প্রযুক্তি উৎসাহীদের দল সেরেনাতা দে আমোর,  সে দেশের সংসদ সদস্যরা খরচের বিপরীতে পাওনা দাবি করে কত টাকা তুলে নিচ্ছেন, তা ট্র্যাক করছে রোজি নামের একটি রোবটের মাধ্যমে। কোন খরচ সন্দেহজনক এবং কেন, এমন বিষয়ও তুলে আনছে রোজি। 

এমন আরো অনেক জায়গা আছে যেখানে অ্যালগরিদম সাংবাদিকদের কাজে আসে : যেমন – ভিডিওর রাফ-কাট, কণ্ঠ এবং ভিড় থেকে মানুষের চেহারা শনাক্ত করা। একইভাবে পাঠকদের সঙ্গে আলাপ বা তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্যও প্রোগ্রাম (চ্যাটবট) ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি ডেটাকে প্রশ্ন করতে পারে, এমন একজন ‘মানুষ’ সাংবাদিকের উপস্থিতি ছাড়া সম্ভব নয়। তাই রিপোর্টার এবং সম্পাদকদের দ্রুত জানতে হবে এই সিস্টেমগুলো কীভাবে চলে এবং এদেরকে সাংবাদিকতার মান বাড়ানোয় কীভাবে কাজে লাগানো যাবে। 


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর