ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৮ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৭৭

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার আগেই চলে গেলেন ডা.ফাহাদ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০১৯  


‘কুরআনের হাফেজ থেকে বিসিএস ক্যাডার হবে সে আশা পূরণ না করেই এইভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলি। কোথায় আমার জানাজার ইমামতি করবি তুই, আর আজ তোর জানাজা পড়তে হলো আমাকে। এমন কথা তো ছিল নারে বাপ।’ এসব কথা বলে কান্নাকাটি করছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাফেজ ডা. জোবাইদুল হক ফাহাদ (২৮) এর পিতা প্রকৌশলী আলহাজ্ব মঞ্জুরুল হক।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন, ছেলে ৩৯তম বিসিএসে ভাইভা দিয়েছে। রেজাল্ট জন্য অপেক্ষায় করছিলাম। রেজাল্টটা হলেই আমাদের স্বপ্নটা পূরণ হতো। কিন্তু বিধির কি লীলা খেলা! সবকিছু শেষ হয়ে গেল।

ডা. ফাহাদের বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডাক্তার ইমরানুল হকের সাথে। তিনি বলেন, জোবাইদুল ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হলেও কলেজে সবার সাথে সু সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে আমাকে ফোন করে বললো, “ভাইয়া বিসিএস ভাইভা ভালো হয়েছে। আশা করি সরকারি ডাক্তার হিসেবে গ্রামের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাবো। 

৫২ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী অসিম বড়ুয়া বলেন, সে অন্য ধর্মের হলেও তার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। একদিন বন্ধুদের কাছে জানতে পারি ফাহাদ কোরআন মুখস্ত করেছে। সেই থেকে তার সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহটা বেড়ে যায়। আজকে হঠাৎ শুনলাম ফাহাদ নেই। খুব কষ্ট লাগছে.....।  

হাফেজ ডা. ফাহাদের মৃত্যুতে ভার্চুয়াল জগতে এখন চলছে শোকের ছায়া। তার শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুরা সবাই শোকাহত। তার এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, ফাহাদের মৃত্যুর খবর শোনে খুব খারাপ লাগছে। সার্জারি ২৫নম্বর ওয়ার্ডের ব্যস্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিল। আমার থোরাসিক সার্জারির রোগীদের ব্যাপারে আলাদা যত্ন নিতো। খুব ভালো ছেলে, এই অল্প বয়সে চলে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টের। সেন্টমার্টিনে একটা প্রোগ্রামে ও একসাথেই ছিল। ওর বাবা-মায়ের জন্য কথা চিন্তা করলে তো আরও খারাপ লাগে।

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাইকোলজি বিভাগের লেকচারার ডা. শহীদুল ইসলাম মামুন তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, লাস্ট কবে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে মনে নেই। কিন্তু আজ তোর (মৃত্যুর) কথাটা শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। বিপদে আপনজন চেনা যায়। ফাইনাল প্রফের সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে তোর সাথে যে আত্মার বন্ধন তৈরি হয়েছিল, সেটা এভাবে শেষ হবে কোনদিন চিন্তাও করিনি। সেই ইস্টার্ন লাইফের একসাথে ডিউটি। একসাথে তোর বাইকে করে ঘুরে বেড়ানো। কেমনে ভুলবো রে। তোর টাইমলাইনের শেষ ছবিটাও যে আমার সাথে। কিছুই ভালো লাগতেছে না। ভালো থাকিস। আমাকেও মাফ করে দিস।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম শিকদার তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, ‘মেডিকেল ছয় বছর এমবিবিএস লাইফের আমার প্রথম এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল। এত্ত এত্ত স্মৃতি তার সাথে কিভাবে ভুলব? আমার রক্তের ভাই না হলেও ভাইয়ের চেয়ে কোনও অংশে কম ছিল না সে। সবাই দোয়া করবেন আমার ভাইকে আল্লাহ যেন বেহেস্ত নসিব করেন।’

চমেকের ডা. ইমরান হোসেন তার ফেসবুকে ডা. ফাহাদকে স্মৃতিচারণ করে লেখেন, মেডিকেলে যেদিন প্রথম আসি সেদিনই পরিচয়। ভর্তি কার্যক্রম চলছিল, ছাত্রলীগের বড় ভাইরা ঘুরে ঘুরে সবাইকে সাহায্য করছিল। নতুন পরিবেশে অনেকটাই জড়সড় ছিলাম। আমাদের ভর্তির ডেটে একসাথে ৪০-৪৫ জন ভর্তি হতে এসেছিলাম। সিরিয়ালে ও আমার পরেই ছিল। আমরা যেখানে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম সেখানে ও ছিল উৎফুল্ল। ঘুরে ঘুরে সবার সাথে কথা বলছিল। মোবাইল নাম্বার নিচ্ছিল। যতদূর মনে পড়ে যখন চলে যাবো তখন ও আমার নাম্বার চাইল। আমরা যেদিন ভর্তি হলাম সেদিন লোকাল অনেক ছেলেই ভর্তি হচ্ছিল। কিন্তু ওর অ্যাপ্রোচটা ছিল অন্যরকম। যেন কত্তোদিনের চেনা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত জোবাইদুল হক ফাহাদ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন। তিনি বুধবার (২৩ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন। এসময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে সাতকানিয়ার হাসমতের দোকানে সামনে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কা নিহত হয় ডা. ফাহাদ।

ডা. ফাহাদ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আফজল মাঝির পাড়ার প্রকৌশলী আলহাজ্ব মঞ্জুরুল হকের বড় ছেলে। ডা. ফাহাদ চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ আইডিয়াল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। এছাড়াও তিনি লাইটার ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বপালনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিন ভাইবোনের মধ্যে হাফেজ ডা. ফাহাদ ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। ডা. ফাহাদেরও আকদ সম্পন্ন হয়েছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে পাস করা ডা. জান্নাতুন নাঈমের সঙ্গে। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার প্রস্তুতি ছিল। ঠিক ওই সময়ই আসলো এমন দুঃসংবাদ।

সিএনবি ফায়ার সার্ভিস মাঠে জানাজার নামাজ (কাপ্তাই রাস্তার মাথার আগে) বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বেসিক শিল্পনগরী আফজল নগরে ডা. জোবাইদুল হক ফাহাদকে দাফন করা হয়।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর