মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৩ ১৪৩২, ২৮ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

আগামী ২২ মার্চ উ. কোরিয়ার নতুন সংসদ অধিবেশন

 প্রকাশিত: ১৩:৫২, ১৭ মার্চ ২০২৬

আগামী ২২ মার্চ উ. কোরিয়ার নতুন সংসদ অধিবেশন

আগামী ২২ মার্চ রোববার উত্তর কোরিয়ার নতুন সংসদ অধিবেশন বসবে। এ অধিবেশন চলাকালীন দেশটির সংবিধানে সংশোধনী আনা ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব  নির্বাচন বিষয়গুলোকে বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

পঞ্চদশ সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির (এসপিএ) এই অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে গত মাসে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন দলের পঞ্চবার্ষিক অধিবেশনের পর। 

ওই পঞ্চবার্ষিক অধিবেশনে নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী ছোট বোন কিম ইয়ো জংকে একটি শীর্ষ পদে উন্নীত করা হয়।

রোববার এসপিএ-তে ৬৮৭ জন প্রতিনিধি ‘নির্বাচিত’ হয়েছেন। যেখানে ১৭ বছরের বেশি বয়সী সকল উত্তর কোরীয়কে শাসক দলের মনোনীত একমাত্র প্রার্থীকে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, প্রার্থীদের পক্ষে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং বিপক্ষে ০ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট পড়ে যথাযথভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ভোটদানের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ফলাফল দেশের নাগরিকদের ‘গৌরবময় রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাস’ প্রতিফলিত করে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নবম ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসের পর এটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই কংগ্রেস কূটনীতি থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরিকল্পনা পর্যন্ত সব বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে এবং একটি বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হয়।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের এক সিনিয়র বিশ্লেষক হং মিন এএফপিকে বলেন, এসপিএ ওই কংগ্রেসে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হং এএফপিকে বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠী পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তগুলোকে দ্রুত বিধিবদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে।’

কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং-কে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা কিম পরিবারের ক্ষমতা আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং কূটনীতি, পারমাণবিক আলোচনা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বিষয়ে অত্যন্ত দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করছেন।

কেসিএনএ জানিয়েছে, এসপিএ দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদ ‘স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশন’-এর সভাপতি হিসেবে কিমের পুনঃনির্বাচন ও সংবিধানে সম্ভাব্য সংশোধনী নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

কিম উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় প্রজন্মের শাসক, যিনি ১৯৪৮ সালে তার দাদা কিম ইল সুং দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আছেন। তার বাবার মৃত্যুর পর ২০১১ সালের শেষ দিকে কিম দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষক হং বলেছেন, সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংশোধনীগুলোর মধ্যে আন্তঃকোরীয় সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুই বৈরী রাষ্ট্রের’ সম্পর্ক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বিশ্লেষক হং বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের সংবিধানে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুটি শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য বড় ধরনের সংশোধনী আনতে পারে