ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৮ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
৪৩৪

পটিয়া বাইপাস সড়ক বাস্তবরূপে:সুফল মিলছে, যানজট ভোগান্তি কমেছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯  

জমি অধিগ্রহণের ১০ বছর পর অবশেষে বাস্তবরূপ নিচ্ছে পটিয়া ইন্দ্রপুল থেকে কচুয়াই গিরিশ চৌধুরীর বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক। ইতিমধ্যে এ সড়কের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিছু অংশে কার্পেটিং ছাড়া সব কাজ শেষ হওয়ায় চলছে সড়কের আনুষঙ্গিক কাজ। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে সড়কটিতে পরীক্ষামূলক ভাবে চলছে ছোট বড় যানবাহন। বিগত দুই সপ্তাহে যানজট এবং ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

বিগত ২০০৮ সালে পটিয়া বাইপাস সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও নানা জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেনি সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধূরীর একান্ত প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ সড়কের কাজ শুরু করে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৯৭ কোটি টাকা। সড়কের মাঝে মাঝে ২০টি কালভার্ট ও ১টি সেতুও নির্মিত হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে শেষ হবে আশা প্রকাশ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসদর এলাকার সড়কের প্রশস্ত কম হওয়াতে বেশিরভাগ সময় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকতো এবং দূর্ঘটনা ঘটতো। পটিয়া ছাড়াও মহাসড়কের চন্দনাইশের কিছু অংশে সড়কের প্রশস্ত কম। এ কারণে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী ছাড়াও পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার যাত্রীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বান্দরবান ও কক্সবাজার পর্যটন এলাকা হওয়ায় এ মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই সড়ক ও জনপদ বিভাগ বিগত দুই যুগ ধরে পটিয়া পৌরসদর এলাকায় মহাসড়কের প্রশস্ত বাড়ানোর চেষ্টা চালায়। সড়কের কিছু অংশে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করে। কিন্তু মামলা জটিলতার কারণে কয়েকবার চেষ্টা করেও তা বেশিদূর আগাতে পারেনি। তাই যানজট দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে তৎকালিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ পটিয়া মনসার টেক থেকে দোহাজারী সাঙ্গু সেতু সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। একই বছর ২৫ জুন ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লি.(আইটিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পটিয়া ইন্দ্রপুল থেকে গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটিও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু তা পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে থেমে যায়।


পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাইপাস সড়কটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। তাঁরই একান্ত প্রচেষ্টায় পটিয়া বাইপাস সড়ক প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখে।

সেময় জায়গা অধিগ্রহণও করা হয়। পরবর্তীতে সড়কের সীমানা নির্ধারন নিয়ে পুনরায় জটিলতা সৃষ্টি হলেও তাও নিরসন করেন সামশুল হক চৌধুরী এমপি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১ জুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হলে ঢাকা র‌্যাব আরসি এন্ড রিলেয়াভেল বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায়। প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে আরো ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও জমি অধিগ্রহণের জন্য ২৫ কোটি টাকা সহ ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের এ সড়কের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পটিয়া বাইপাস ৫ কিলোমিটার সড়কটি অভ্যন্তরীন প্রায় ৮টি সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে। বাইপাস সড়কের বাকখালি ২টি অংশ, করল ২টি অংশ, পৌরসদরের দক্ষিণে ১টি অংশ, ভাটিখাইন ১টি অংশ, গুয়াতলি ১টি অংশ ও কচুয়াই সড়কে ১টি অংশে অভ্যন্তরীন এসব সড়কে মানুষের যাতাযাত রয়েছে। 

সড়কগুলোতে ছোট ছোট গাড়িও যাতায়াত করে। এসব অংশে বাইপাস সড়কে দ্রুত গতিতে বড় যানবাহন চলাচল করলে যেকোন বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তাই এসব স্থানে গতিরোধকসহ রাস্তা পারাপারের বিশেষ ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয়রা দাবী জানিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের বেশিরভাগ অংশে কার্পেটিং কাজ শেষ। 

সড়কের ইন্দপুল ও গিরিশ চৌধুরী বাজার এলাকার কিছু অংশে কার্পেটিং এর কাজ চলছে। কয়েকদিন আগে এ সড়কের দুই পাশে বিদ্যুতের খুটি বসানোর কাজও শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। ৫কিলোমিটার সড়কের মাঝে মাঝে ২০টি কালভার্ট ও শ্রীমতি খালের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা আবু ছালেহ মো. শাহরিয়ার জানান, বাইপাস সড়কের করল এলাকায় অভ্যন্তরীন সড়কের ২টি অংশকে যুক্ত করেছে। এছাড়াও আরো যেসব অভ্যন্তরীন সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে সেসব এলাকার দুই পাশে উচুকরণসহ গতিরোধক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

এব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পটিয়া বাইপাস ৫ কিলোমিটার সড়কের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলছে সড়কের আনুষঙ্গিক কাজ। এ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য ২৫ কোটি এবং নির্মাণ কাজের জন্য ৭২ কোটি টাকাসহ মোট ৯৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ১টি সেতু ও ২০টি কালভার্টও স্থাপন করা হয়েছে। জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এর আগেই সব কাজ শেষ করার প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এ সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলছে। এতে যানজট নিরসন এবং ভোগান্তিও কমেছে।

 তিনি বলেন, ৫কিলোমটার বাইপাস সড়কের ৮টি সংযোগ স্থানে সাধারণ মানুষের পারাপার যাতে নিরাপদ হয় সেজন্য ওইসব স্থানে গতিরোধকসহ সড়কের দুইপাশে উচু করে দেয়া হবে। এ সড়কে পুরোধমে গাড়ি চলাচল শুরু করলে দীর্ঘদিনের যানজট যেমন নিরসন হবে তেমনি দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের যাত্রীদের সময় কমে আসবে।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর