ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে: তারেক রহমান
দেশে ফের ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “পত্রপত্রিকা তো কমবেশি সবাই পড়েন পড়েন না? ফেসবুক তো কমবেশি সবাই দেখেন দেখেন না? এই ফেসবুকে দেখেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে একটি সংবাদ; কী সেই সংবাদ? মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড নিয়ে মোবাইল নম্বর নিয়ে মা বোনদেরকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল; দেখেছেন? একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে।
“আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে এখন বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখানে আজকে যারা উপস্থিত আছেন, আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ করব এবং আপনাদের মাধ্যমে এই পুরো জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকার যত ভাই-বোন, মুরুব্ব আছেন, যারা দাঁড়িয়ে আছেন- সকলকে আমি অনুরোধ করব, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সজাগ থাকার জন্য।
“কারণ এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।”
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভীবাজারের আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এখন ভাই এই যে দলটি সম্পর্কে সজাগ থাকতে বললাম; এই দল সম্পর্কে আরেকটি কথা বলি আপনাদের সামনে। কয়েকদিন যাবৎ আমরা কী দেখছি? আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে কতগুলো কথা বলছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং শুধু মিথ্যা কথাই নয়, গুনাহের কথা তারা বলছে। আসুন প্রথমে তাদের মিথ্যা কথা কী বলছে, সেটি আমরা দেখি- কী সেই মিথ্যা কথা?
“...১৯৭১ সালে এই মাটিকে এই মাটির সাথে রক্ত মিশিয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বুকের রক্ত তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই যে দলটি সম্পর্কে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে বলছি, আমরা দেখেছি তখন কী ভূমিকা ছিল তাদের। যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের পক্ষে থাকত, যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের জনগণের পক্ষে থাকত; তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হতে হতো না।”
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ ’৭১ সালেই দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ’৭১ সালে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারপরে লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্মানহানি হয়েছে ’৭১ সালে। দেশের মানুষ দেখেছে- আপনাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন; অনেক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। কাজেই আপনাদেরকে আরও ৫০ বছর আগে দেখে ফেলেছে আপনাদের ভূমিকা কী।”
বিএনপির প্রধান বলেন, “আমরা দেখছি এই কথাগুলো যখন তাদের বের হয়ে যাচ্ছে, মানুষ যখন বুঝতে পারছে যে তারা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে, তারা দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে- এইটা যখন মানুষ বুঝতে পারছে এবং এইটা যখন তারাও বুঝতে পারছে যে মানুষ তাদের চালাকি, তাদের ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে; তখন তারা সরকারকে গিয়ে বলছে নিরাপত্তা দিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে; প্রটোকল দিতে হবে, প্রটোকল দিতে হবে।”
তারেক বলেন, “…অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যারা প্রধান আছেন, ডক্টর ইউনূসসহ সকলকে অনুরোধ করব- তাদেরকে যে প্রটোকল দিয়েছেন, আমাদেরকে যে নিরাপত্তা দিয়েছেন; আমরা আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি- সরকারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে, এই লাখো জনতার পক্ষ থেকে, তাদের প্রটোকল দরকারের তিন ডাবল করে দেন।
“তাদের প্রটোকল তিন ডাবল করে দেন, কারণ তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এইটা জানতে পেরে মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে। আমরা চাই না, মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষ কিছু করে বসুক।”