‘প্ল্যান’ তুলে ধরলেন তারেক রহমান
দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার দিন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরলেন মৌলভীবাজারের জনসভায়।
তিনি বলেছেন, “আমি একটানা ১৭ বছর পর যখন বিদেশ থেকে ফিরে এসেছি, একটি কথা বলেছিলাম- মনে আছে আপনাদের, আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলেছিলাম না? সেই প্ল্যানের অর্থ একটি অংশ হচ্ছে আমরা এদেশের বেকার যারা যুবক আছে; শিক্ষিত হোক, অল্প শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত- সকল মানুষের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, শক্ত ভিত্তির ওপর যাতে এই মানুষগুলো দাঁড়াতে পারে।”
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “যুব সমাজের যারা সদস্য, তরুণ সমাজের যারা সদস্য- তাদের শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নয়; আমরা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম গড়ে তুলতে চাই। যেন আপনারা লন্ডনে যান, অথবা এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান, অথবা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যান; আমরা আপনাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে পাঠাব; আপনাদেরকে সেই দেশের ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যাতে ওই দেশে গিয়ে আপনারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারেন।
“যাতে করে আপনাদের আয়-রোজগার যদি আপনারা কোনো রকম দক্ষ না হয়ে সে দেশে যান, আয় রোজগার কম হবে; কিন্তু যদি কোনো ট্রেনিং নিয়ে যান তাহলে কী হবে? রোজগার বেশি হবে না? আমরা সেই ব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য করতে চাই।”
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “এই এলাকায় তো ১৩০টির মতন চা বাগান রয়েছে, আছে না? এই চা বাগানের শ্রমিকরা বিশেষ করে নারী শ্রমিক যারা, তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়। তাদের যে আয় রোজগার হয়, সেটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
“সেই সকল পরিবারকে, সেই সকল নারীদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে আমরা হয় খাদ্য সহায়তা দেব অথবা তাদেরকে আমরা নগদ সহায়তা দেব যাতে করে তারা তাদের সংসার সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে পারে সুন্দর ভাবে চালিয়া নিতে পারে।
“প্রিয় ভাই-বোনেরা চা শ্রমিকরা যেমন পাবে, একইভাবে একজন দিনমজুর- তার স্ত্রীও সেই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। একজন শ্রমিক, একজন কৃষক ভাই- তার স্ত্রীও এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে।”
কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজিনদের সম্মানী দেওয়ার ভাবনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “আমরা যেমন কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চাইছি। আমরা যেমন আমাদের মা বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাইছি, আমরা যেমন আমাদের তরুণ সমাজ যুব সমাজের যারা বেকার, তাদের ট্রেনিং দেওয়ার মাধ্যমে, ভাষা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে যেমন চাচ্ছি; একইভাবে আরেক শ্রেণির মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাচ্ছি, তারা কারা?
“তারা আমাদেরই আপনজন, আমাদেরই নিকটজন। এই মানুষগুলো আমাদের দুঃখের সময় আমাদের সাথে থাকেন, সুখের সময়ও আমাদের সাথে থাকেন; জীবনেও আমাদের সাথে থাকেন, মৃত্যুর সময়ও আমাদের সাথে থাকেন। অর্থাৎ আমাদের বিভিন্ন সারা দেশে যে মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে; সেখানকার খতিব সাহেবরা, সেখানকার ইমাম সাহেবরা- মোয়াজ্জেম সাহেবরা।
“আমরা এই মানুষগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানির ব্যবস্থা করতে চাই। যেন মসজিদের ইমাম সাহেব, খতিব সাহেব, মোয়াজ্জেম সাহেবরা আত্মসম্মান নিয়ে সম্মানের সাথে এই সমাজে বসবাস করতে পারেন।”