জঙ্গল ছলিমপুরে র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের সময় হামলার শিকার হয়ে র্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-৭ এর ডিএডি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞঅতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে; মামলায় ইয়াসিন নামে একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মহিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিন জনের মধ্যে দুইজন এজাহারনামীয় এবং অপরজন সন্দিগ্ধ।
নিহত আবদুল মোতালেব র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক ছিলেন। সোমবার বিকালে জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের সময় ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায়’ তিনি মারা যান। গুরুতর আহত হন আরও তিন র্যাব সদস্য।
প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর।
খাস জমির ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে অবস্থান জঙ্গল ছলিমপুরের। টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিণত হয়েছে ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’।
স্থানীয় লোকজনদের কেউ কেউ বলেন, ২০০৪ সালে থেকে সেখানে বসতি শুরু হয়। বর্তমানে ৮-১০ হাজার পরিবারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস সেখানে। পুরো এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয়েছে ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য।
এলাকাবাসীর দাবি, কম টাকায় ‘জমি কিনে’ সেখানে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। দেশের প্রায় সব জেলার মানুষই রয়েছে সেখানে, যাদের অধিকাংশ রিকশাচালক, ঠেলাগাড়ি চালক, দিনমজুর, হোটেল বয় ও গার্মেন্টম শ্রমিক।
এলাকাটির ভেতরে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, এতিমখানা, কবরস্থান, মন্দির, কেয়াং, গির্জা, শ্মশান বাজার সবই আছে।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সেখানে সংবাদকর্মীরা ‘প্রবেশ করতে পারেননি’। অবৈধ এ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে। বিভিন্ন সময়ে সেখানকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের খবর আসে।
২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তখন উচ্ছেদ অভিযানে বারেবারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টানা উচ্ছেদ অভিযানে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেখানে আবারও ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের’ তৎপরতা বেড়ে যায়। কয়েকবার সংঘর্ষ ও খুনোখুনি ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।