বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৯ ১৪৩২, ০৩ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিচার শুরুর আদেশ হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয় বললেন, ‘সম্ভবত তাই’ উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে: তারেক রহমান নবীর আদর্শে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়ী হবে: নাহিদ ইসলাম জঙ্গল ছলিমপুরে র‌্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ নির্বাচনে প্রার্থীদের ঋণের বোঝা ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা নির্বাচন: ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়’ সেল গঠন ইয়েমেনে সরকারপন্থী বহরে হামলা, নিহত ৫ শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ভোট চাইলেন তারেক রহমান ভোটে ৫১ দল: ধানের শীষের ২৮৮ প্রার্থী, দাঁড়িপাল্লার ২২৪ আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল সোনার ভরি যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: ট্রাম্প ইউরোপকে আরও কঠোর হতে হবে : ইইউ প্রধান ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিতে সম্মত নেতানিয়াহু

জাতীয়

‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিচার শুরুর আদেশ

 প্রকাশিত: ১৬:৩১, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিচার শুরুর আদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।

এই ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া অপর আসামিরা হলেন-আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

সব আসামি পলাতক থাকায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর প্রয়োজন হয়নি। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।

পরে প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপরে আদেশের দিন ধার্য ছিল। মাননীয় ট্রাইব্যুনাল এই সাতজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করেছেন।

“এই সাতজনই পলাতক আছেন। অতএব পলাতক থাকায় তাদেরকে অভিযোগ পাঠ করে শোনানো যায়নি। অতএব ওনারা দোষী কিংবা নির্দোষ এটা বলারও অপেক্ষা রাখে না, বলাই বাহুল্য। তাদের বিরুদ্ধে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘ওপেনিং স্টেটমেন্ট’ এবং প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যের দিন ধার্য করা হয়েছে।”

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে তাজুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে ‘রাজাকারের বাচ্চা’, ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন, যার প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা ফুঁসে ওঠে এবং আন্দোলন আরো তীব্রতর হয়।”

তাজুল বলেন, এই উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করে ওবায়দুল কাদের সারাদেশের ছাত্রলীগ, যুবলীগকে আরো ‘উসকানি এবং নির্দেশনা’ প্রদান করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের উপরে হামলা হয়।

“উনি বলেন, এই আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এরপরে আমরা দেখতে পেয়েছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা হয়েছে, যারা আহত, চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাদের ওপরে হামলা হয়েছে। এর পরদিন ১৬ তারিখ আবু সাঈদ শহীদ হন এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারাদেশে ৬ জন আন্দোলনকারী শহীদ হন।”

একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এই ধরনের ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের ওপরে ‘নির্বিচারে গণহত্যা’ চালানো হয় দাবি করে তাজুল বলেন, আওয়ামী লীগের যে সকল আসামিদেরকে এখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারাও এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে এই আন্দোলনে ‘অপরাধ সংঘটনে উসকানি’ দিয়েছেন।

“আরাফাত বলেছিলেন যে সরকারের কাছে যতগুলো গুলি আছে, যদি একটানা পাঁচ বছর ছাত্রদের ওপর গুলি করা হয় তাও শেষ হবে না। উনি আবু সাঈদসহ এই আন্দোলনকারীদেরকে মাদকাসক্ত–এই জাতীয় অপমানজনক, অবজ্ঞাসূচক বক্তব্য দিয়ে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন, উসকানি দিয়েছেন।”

যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের প্রত্যেকটি ইউনিটে ‘নির্দেশনা’ দিয়ে এই আন্দোলন দমনে ‘অস্ত্র ব্যবহার’ করেছে, দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যমে ‘হত্যা করেছে’, তাদেরকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করেছে’, বলেন তিনি।

তাজুল বলেন, “প্রসিকিউশন মনে করে যে অভিযোগ আজকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেন সেই অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য প্রসিকিউশনের কাছে অকাট্য দলিল রয়েছে। যেটা ‘ডকুমেন্টারি এভিভেন্স’, যেটা ‘ভিডিও অ্যান্ড অডিও এভিডেন্স’ এবং মৌখিক সাক্ষ্য আমাদের কাছে আছে, যেটা আমরা ১৭ তারিখে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করব এবং আমরা আশা করছি যে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।”

জুলাই আন্দোলন দমনে হত্যা, উসকানি ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিন সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ করে। ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে।