শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৫ ১৪৩২, ১৯ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের ঋণ মওকুফ হবে : তারেক রহমান এমপি হয়ে প্লট, শুল্কমুক্ত গাড়ি নেব না: হবিগঞ্জে জামায়াত আমির হাদি হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না: হাদির বোন কারাগারে মারা গেলেন সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেন এনসিটি ইজারা: রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত সেই শিশুর মৃত্যু আবার বাড়লো সোনার দাম, প্রতি ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে : ট্রাম্প জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার? তারেক বললেন, বিএনপি ‘একাই সক্ষম’ তারেক রহমানকে ওপেন ডিবেটের আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ‘ফেভারিট’ বলল দ্য ইকোনমিস্ট দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’: নির্বাচনি ইশতেহারে তারেকের ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বকাপ শুরু, ৩০ বছর পর নেই বাংলাদেশ ইউক্রেইনে ‘মার্চের মধ্যে’ শান্তি চুক্তি ও দ্রুত নির্বাচন ‘চায় যুক্তরাষ্ট্র’

ইসলাম

তিনবার ‘কবুল’ না বললে কি বিয়ে শুদ্ধ হয় না?

 প্রকাশিত: ১৫:২২, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তিনবার ‘কবুল’ না বললে কি বিয়ে শুদ্ধ হয় না?

প্রশ্ন: বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনবার ‘কবুল’ না বললে কি বিয়ে শুদ্ধ হয় না? আমাদের এলাকায় অনেকেই মনে করেন, তিনবার কবুল না বললে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। আবার কনের ক্ষেত্রেও কি বিয়েতে সম্মতি জানানোর সময় ‘কবুল’ বলা জরুরি?

উত্তর:
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের ইজাব (প্রস্তাব) দেওয়ার পর সাক্ষীদের শুনিয়ে একবার কবুল করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। দুইবার বা তিনবার কবুল বলা আবশ্যক নয়। (ফাতাওয়া শামী, ফাতাওয়া আলমগিরী)

তবে যদি প্রথমবার কবুল বলার সময় সাক্ষীরা তা স্পষ্টভাবে না শোনেন, তাহলে তাদের শোনা নিশ্চিত করার জন্য আবার কবুল বলা যেতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে গুনে গুনে তিনবার কবুল বলতেই হবে—এমন ধারণা শরিয়তসম্মত নয়। একইভাবে, তিনবার কবুল না বললে বিয়ে শুদ্ধ হবে না—এই বিশ্বাসও ভুল

শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক কনের সম্মতি ছাড়া বিয়ে সহিহ হয় না। বিয়ের আগে অবশ্যই তার সম্মতি নেওয়া জরুরি। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
“কোনো বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কোনো কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।”
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কুমারীর অনুমতি কীভাবে নেওয়া হবে? তিনি বললেন, “তার নীরবতাই অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, পূর্ববিবাহিতা (বিধবা) কনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশনা জরুরি। কারণ তিনি সাধারণত বিয়ের বিষয়ে মতামত প্রকাশে সংকোচবোধ করেন না। আর কুমারী কনে স্বভাবতই লজ্জাবোধের কারণে মুখে সম্মতি প্রকাশ নাও করতে পারেন—তাই তার চুপ থাকা বা বিরোধিতা না করাই সম্মতি হিসেবে গণ্য হয়।

অভিভাবক পাত্রের পরিচয় ও বিস্তারিত জানিয়ে কনের মতামত জানতে চাইবেন। কনে যদি হাসেন বা নীরব থাকেন এবং কোনো আপত্তি না জানান, তাহলে সেটিই তার সম্মতি বলে বিবেচিত হবে।

তবে পূর্ববিবাহিতা বা কুমারী—কোনো ক্ষেত্রেই কনের জন্য বিয়েতে সম্মতি জানানোর সময় মুখে ‘কবুল’ বলা জরুরি নয়। অভিভাবক কনের সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে অথবা বিয়ে পড়ানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রস্তাব দেবেন, আর বর একবার ‘কবুল করলাম’ বললেই শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবে।