শনিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৪ ১৪৩২, ২৮ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারীকে’ নিষিদ্ধ ঘোষণা ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, কর্মবিরতি তারেক রহমানের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান ট্রাম্প ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানালেন বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি না দেওয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় মৃত্যু: ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী খুনে গ্রেপ্তার ২ অপসাংবাদিকতার শিকার হয়েছি: মামুনুল হক ‘উপযুক্ত সময়ে’ ভেনেজুয়েলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার মাচাদোর লন্ডনে ইরানের দূতাবাসের ছাদে ওঠা বিক্ষোভকারী গ্রেফতার ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সামান্য সচল হয়েছে : নেটব্লকস নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছে ইইউ মিশন সিলেটে তিন বাসের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের এবার টেকনাফ সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ স্থানীয়দের গণহত্যা অস্বীকার, জাতিসংঘ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু মিয়ানমারের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ইসলাম

সম্রাট শেরশাহের অমরকীর্তি

 প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

সম্রাট শেরশাহের অমরকীর্তি

শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট (১৫৪০-১৫৪৫) ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন। কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন। ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের কাছে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

সুলতান পুলিশ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করেন। গ্রাম-প্রধানদের তিনি দায়িত্ব দেন নিজ নিজ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বিধানের এবং মুহতাসিবদের সহায়তায় তিনি মদ্যপান ও ব্যভিচারের মতো অপরাধ দমন করেন। তিনি একটি শক্তিশালী স্থায়ী সেনাবাহিনী ও দক্ষ গুপ্তচর দল পোষণ করতেন। ন্যায় বিচারের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল অনুরাগ। সুলতান ছিলেন দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলায় সর্বোচ্চ বিচারক। তাঁর পরবর্তী অধস্তন বিচারক ছিলেন কাজি-উল-কুজ্জাত। পরগণাগুলিতে কাজী ফৌজদারি মামলার বিচার করতেন, আর দেওয়ানি মামলার বিচারক ছিলেন আমিন। হিন্দুদের দেওয়ানি মামলার বিচার করতেন পঞ্চায়েতরা।

মাত্র পাঁচ বছরের স্বল্পকালীন শাসনে শেরশাহ সাম্রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বিধান করে প্রশাসনকে পুনর্বিন্যাস করেন। তিনি তাঁর সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে এবং প্রতিটি সরকারকে কয়েকটি পরগণায় বিভক্ত করেন। এই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাংলায় ১৯টি সরকার ছিল।

তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধার জন্য সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড ‘সড়ক-ই-আজম’ নামে অভিহিত রাস্তাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বিশাল রাস্তা ছিল এক হাজার ৫০০ ক্রোশ রোয়। এই দীর্ঘ রাস্তা বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধুদেশ পর্যন্ত চলে গেছে। সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুলতান পর্যন্ত ৪,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সড়ক-ই-আজম’ বা ‘গ্র্যান্ড ট্রাক রোড’ নামে।

শেরশাহের শাসনামলে (১৫৪০-১৫৪৫) কৃষি ও শিল্পের উন্নতি

কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নে শেরশাহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শেরশাহের বড় কৃতিত্ব ছিল ভূমি ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন।

ক. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়ন : ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে শেরশাহ ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেন, ফলে প্রকৃত আবাদি ভূমির পরিমাণও স্থির করা সম্ভব হয়। আবাদি ভূমিকে তার উত্পাদিকা শক্তি অনুসারে উত্তম, মধ্যম ও নিম্নতম—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। পরে এর উত্পাদনের গড় নির্ণয় করে উত্পাদিত ফসলের অংশ রাজস্ব হিসেবে ধার্য করা হয়। ধার্যকৃত রাজস্ব কৃষকরা ফসলের দ্বারা বা দেয় ফসলের বাজারমূল্যে নগদ অর্থ দ্বারা প্রদান করতে পারতেন।

খ. কবুলিয়তপাট্টা প্রথা প্রচলন : শেরশাহ সর্বপ্রথম কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথা প্রচলন করেন। কৃষকরা তাঁদের অধিকার, দাবি ও দায়িত্ব বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিতেন, আর সরকারের পক্ষ থেকে জমির ওপর কৃষকের স্বত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেওয়া হতো। এই প্রথা নিঃসন্দেহে ভূমিতে রাষ্ট্র ও প্রজার স্বত্ব নির্ধারিত করে।

গ. রাজস্ব আদায়ে কর্মচারী নিয়োগ : শেরশাহ রাজস্ব আদায়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আমিন, মুকাদ্দাম, চৌধুরী, পাটওয়ারী, কানুনগো প্রভৃতি কর্মচারী নিযুক্ত করে তিনি নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের সুবন্দোবস্ত করেন। রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের প্রতি শেরশাহের কড়া নির্দেশ ছিল, সময়মতো নির্ধারিত রাজস্ব যেন আদায় করা হয়।

ঘ. রাজস্ব আদায়ে উদারতা প্রদর্শন : শেরশাহ প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন। রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের ব্যাপারে রাজা, প্রজার স্বার্থ অভিন্ন বলে মনে করা হতো। প্রজাদের প্রতি রাজস্ব আদায়কালে যেন অহেতুক অত্যাচার, উত্পীড়ন করা না হয়, তার জন্য রাজস্ব কর্মচারীদের সতর্ক করে দেওয়া হতো। জমির রাজস্ব নির্ধারণের ব্যাপারে যথাসম্ভব উদারতা এবং রাজস্ব আদায়ের সময় কঠোরতা প্রদর্শন করা ছিল শেরশাহের রাজস্ব সংস্কারের মূলনীতি। অবশ্য অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির ফলে বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের করভার থেকে রেহাই দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়।