‘উপযুক্ত সময়ে’ ভেনেজুয়েলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার মাচাদোর
‘উপযুক্ত সময় এলে’ দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
“এটা একটা মিশন, আমরা ভেনেজুয়েলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করতে যাচ্ছি এবং আমি বিশ্বাস করি, যখন সময় আসবে তখন আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবো, প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট,” ফক্স নিউজকে মাচাদো এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বৃহস্পতিবারই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তাকে উপহার দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার ‘স্বাধীনতার’ প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এ উপহার দেওয়া হয়েছে বলেও মাচাদো সেসময় জানিয়েছিলেন।
চলতি মাসের ৩ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশ থেকে তুলে নিয়ে নিউ ইয়র্কে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করেছে।
এরপরও ট্রাম্প ভেনেজুলেয়ার নতুন নেতা হিসেবে মাচাদোকে ‘বেছে নেননি’। উল্টো বলেছেন, দেশের ভেতর মাচাদোর পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই।
তার বদলে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার এখনকার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করছেন। মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা ডেলসি শুক্রবার ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে’ যাওয়া সিআইএ পরিচালকের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠকও করেছেন। যে বৈঠকের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বাড়ানো, বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
“পরিচালক র্যাটক্লিফ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ এবং ভেনেজুয়েলা যেন আমেরিকার প্রতিপক্ষদের নিরাপদ আশ্রয় না হয় তা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা করেছেন,” বলেছেন ওই কর্মকর্তা।
মাচাদোকে বাদ দিয়ে কেন ডেলসির সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, তার সিদ্ধান্তের পেছনে ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ও তার পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন ওই অভিযানের পর ইরাকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, সুযোগ সৃষ্টি হয় বিদ্রোহের, শেষ পর্যন্ত সেখানে আবির্ভাব ঘটে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস)।
“আপনাদের যদি ইরাক নামের জায়গাটার কথা মনে পড়ে, যেখানে সবাইকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা, সেনাবাহিনীর জেনারেল, সবাইকে বরখাস্ত করা হয়, শেষ পর্যন্ত তারা আইএসআইএসে পরিণত হয়েছিল। আমার মনে আছে,” বলেছেন তিনি।
পরে শুক্রবার ওয়াশিংটনের এক অনুষ্ঠানে মাচাদো বলেন, তার দেশে ‘নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতার পরিবর্তন’ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
“শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল পরিবর্তনের ফলে গর্বিত ভেনেজুয়েলা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা মিত্র, যেমন মিত্র আমেরিকা অঞ্চলে আর কখনো পায়নি তারা,” বলেছেন তিনি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে বলেছেন, তিনি ‘রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে মোটেও ভীত নন।
ভেনেজুয়েলার ‘মর্যাদা ও সম্মান’ রক্ষা করা দরকার মন্তব্য করে তিনি আরও বিদেশি বিনিয়োগ আনতে তেল খাত সংস্কারের ঘোষণাও দেন। এর মাধ্যমে তিনি মাদুরো আমলের নীতি থেকে বেরিয়ে এলেন বলে অনেকে মনে করছেন।
বুধবার ফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প ডেলসিকে ‘চমৎকার মানুষ’ আখ্যা দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টও ওই ফোনালাপকে ‘ফলপ্রসূ ও শালীন’ আখ্যা দেন।
তার পরদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাচাদোকে ‘অনেক কিছু পেরিয়ে আসা অসাধারণ নারী’ আখ্যা দেন এবং তার দেওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদককে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চমৎকার নিদর্শন’ বলেন।