শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আহ্বান।

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আহ্বান।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ তার দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই আহ্বান জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলাগামী এবং ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে আসা তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর ‘অবরোধ’ জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এছাড়া কারাকাসের বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপরও নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি এক দুঃসাহসিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। এরপর ফৌজদারি অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করতে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ওপর জারি করা অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এখনই শেষ হোক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি।’

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার একসময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি এরই মধ্যে একটি সাধারণ ক্ষমা আইনও পাস করেছেন।

কারাকাসে নিযুক্ত নতুন মার্কিন মিশন প্রধান, সিআইএ প্রধান এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ডারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে সাত বছরের পুরনো তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। 

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানিকে নির্দিষ্ট শর্তে ভেনেজুয়েলায় কাজ করার লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘নতুন বন্ধু ও অংশীদার’ ভেনেজুয়েলা থেকে ৮ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পেয়েছে। মূলত ওয়াশিংটনের চাপেই রদ্রিগেজ দেশটির হাইড্রোকার্বন আইনে বড় ধরনের সংস্কার এনেছেন, যার মাধ্যমে তেল খাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।