রোববার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৯ ১৪৩২, ১৩ শা'বান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত

 আপডেট: ১২:১৪, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজাজুড়ে শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে হামলা করা হয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর এদিনের হামলাকেই ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ বলছে ফিলিস্তিনিরা। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, হামাস শুক্রবার ‘চুক্তি লঙ্ঘন’ করে, তার জবাবে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।

গত বছর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজার পূর্ব রাফাহ এলাকায় ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা আট সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে।”

ওই এলাকায় অক্টোবরে হওয়া চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

আইডিএফ বলছে, ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সির (আইএসএ) সঙ্গে যৌথভাবে তারা বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—‘চারজন কমান্ডার ও সন্ত্রাসী’, একটি অস্ত্র সংরক্ষণাগার, একটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ‘মধ্য গাজায় হামাসের দুটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র’।

হামাস হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি বলেছে, “চলমান লঙ্ঘনগুলো এটাই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি সরকার গাজার বিরুদ্ধে তাদের নৃশংস গণহত্যামূলক যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে।”

হামাস বলছে, খান ইউনিসে নিহতদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত একই পরিবারের সাত সদস্য ছিলেন। সিভিল ডিফেন্সের এক মুখপাত্র বলেন, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং একটি পুলিশ স্টেশনে আঘাত হানা হয়েছে।

গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, এক বিমান হামলায় শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানা হয়, তাতে তিন শিশু ও দুই নারী নিহত হন।

ওই তিন শিশুর চাচা সামের আল-আতবাশ রয়টার্সকে বলেছেন, “আমার তিন ছোট ভাগনিকে আমরা রাস্তায় পেয়েছি। তারা ‘যুদ্ধবিরতি’র কথা বলে… ওই শিশুরা কী করেছিল? আমরা কী করেছি?”

ভিডিও ও ছবিতে গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করতে দেখা গেছে এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, এই হামলাগুলো এমন সময়ে হল, যখন মিসরের সঙ্গে গাজা সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং রোববার ফের খোলার কথা রয়েছে। আইডিএফ চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলের শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারও বারবার ইসরায়েলের ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেন।

প্রথম ধাপের আওতায় হামাস ও ইসরায়েল ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ ধাপে জিম্মি-বন্দি বিনিময়, আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উইটকফ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠা, অঞ্চলটির পুনর্গঠন এবং পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ—যার মধ্যে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর অস্ত্রসমর্পণও থাকবে।

দক্ষিণ ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এ হামলার জবাবে গাজায় যে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলে, তাতে ৭১,৬৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর অন্তত ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করে সামরিক বাহিনী। যদিও হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে এর আগে আপত্তি তুলেছিল ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা। এ পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হয়েছে।