বিএমইউ’র স্নাতকোত্তর রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ই-লগ বুক চালু
বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) স্নাতকোত্তর রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ই-লগ বুক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অফিসে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এ কার্যক্রম পাইলটিং পর্যায়ে পাঁচটি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিষয় বা বিভাগগুলো হলো মেডিসিন বিভাগ, জেনারেল সার্জারি বিভাগ, অ্যানেসথেসিয়া এ্যানালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ, রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগ, হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগ। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগে ই-লগ বুক চালু করা হবে।
সে লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি অফিস জোরালোভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে।
অটোমেশনের এই যুগে উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় ই-লগ বুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ই-গর্ভনেন্স এর বিষয়টিও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। সেই বিবেচনায় বিএমইউতে দেশের স্বার্থে ই-লগ বুক চালুর কার্যক্রমকে পূর্ণমাত্রায় সফল করতে হবে।
সভায় রেসিডেন্সি প্রোগ্রামকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণ, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই সব বিভাগে ই-লগ বুক চালু, ই-লগ বুক চালুর সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাসমূহ নিরসন করাসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগ। প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রচলিত কাগজের লগ বুকের পরিবর্তে যে আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হয়েছে, সেটিই হলো ই-লগ বুক।
ই-লগ বুক একটি ডিজিটাল নথি বা সফটওয়্যারভিত্তিক রেকর্ড সিস্টেম, যেখানে কোনো কাজ, কার্যক্রম, উপস্থিতি, দাপ্তরিক তথ্য বা দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। ই-লগ বুক আধুনিক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের কার্যক্রম, দৈনিক কাজের বিবরণ ই-লগ বুকের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়।
এতে কাগজের লগ বুকের মতো হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম এবং দীর্ঘদিন তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-লগ বুক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি পরিবেশবান্ধব, কারণ কাগজের ব্যবহার কমে যায়। তথ্য বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট তৈরি করা সহজ হয়, ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত ও কার্যকর হয়। এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।