নতুন ভূমিকায় আসছে জামায়াত জোট?
নির্বাচন শেষ হয়েছে, জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনি জোটের পরবর্তী ভূমিকা কী হবে? এ আলোচনা সামনে এসেছে, শরিক দলগুলোও তাদের দলীয় পরিসরে আলাপ শুরু করেছে।
এরই মধ্যে জামায়াত তাদের নির্বাহী কমিটিতে বিষয়টি তুলেছে, তারা নির্বাচনি জোটকে সংসদে বিরোধী দলীয় জোটে রূপ দিতে চায়।
জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও বলেছে, তাদের ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’কে ১১ দলীয় ঐক্যজোট নামে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। ২৯৯ আসনে ভোট হলেও ফলাফল দেওয়া হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত জোট। দলটির ঝুলিতে গেছে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৬৮ আসন।
শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৬ আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ ও খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ আসন।
নির্বাচন সামনে রেখে ১৬ জানুয়ারি জামায়াতের নেতৃত্বে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ সূচিত হয়।
ইসলামী আন্দোলন এই জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করে একটি আসন পেয়েছে।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস।
তবে এই দলগুলোর কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা আলাপচারিতায় বলেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেদিকেও নজর রাখছেন তারা।
যদিও নির্বাচনের আগে ৬ ফেব্রুয়ারি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতের সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
এখন নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
জামায়াত জোটের কোনও শরিক দলকে সরকারে যুক্ত করা হবে কি না, এ নিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেই।
ভেতরে ভেতরে এনসিপি বা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নিয়ে আগ্রহ থাকার বিষয়টি চোখে পড়লেও শনিবার বিকাল পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় সরকার নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু এখন কাদের নিয়ে হবে, তা আলোচনা হয়নি। আগামী দুয়েক দিনে তা আশা করছি ঠিক হবে।”
এ অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদে কার কী ভূমিকা থাকবে, বা জোটের করণীয় কী হবে, তা নিয়ে ১১ দলের শরিকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক সেরেছে জামায়াত।
দলটির একজন নেতা বিডিনিউজ টায়েন্টিফোরডটকমকে বলেন, নির্বাহী কমিটির বৈঠকে তাদের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যকে বিরোধী দলের ভূমিকা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভবিষ্যতে জোটের ভূমিকা কী, তা নিয়ে শনিবার বৈঠকে বসছে জোটের লিয়াঁজো কমিটি। জামায়াতের মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি হবে।
একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে।
তবে দলের আমির মামুনুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটমকে বলেন, “১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য এখন ১১ দলীয় ঐক্যজোট নামে কাজ করবে।”
এ নিয়ে এনসিপির মধ্যে এখনও আলোচনা হয়নি বলেছেন দলের নেতারা
শনিবার সকালে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই নির্বাচনি জোট কন্টিনিউ করার পক্ষে। এখনও আলাপ হয়নি দলে। আমাদের ফোরামে আলোচনা করার পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।”
গেল বছর রাষ্ট্র সংস্কারের দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্টায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ চলার মধ্যে পাঁচ দফা নিয়ে মাঠে নামে ইসলামপন্থি কয়েকটি দলসহ আট দল।
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ছিল তাদের যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম দাবি।
শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল এই মোর্চায়।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে ১১ দলীয় জোট ছাড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি এবং তার পরদিন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এই জোটে যোগ দেয়।
কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপড়েনের জেরে ইসলামী আন্দোলন মোর্চা থেকে সরে যায়। তাদের জায়গায় যোগ হয় বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
এলডিপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি ও বিডিপি জোটগত নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো আসনে জয়ী হয়নি। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাগপা ও লেবার পার্টি কোনো আসন না নিয়েই জোটে রয়েছে।
এলডিপির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অলি আহমদ চট্টগ্রামে আছেন। তিনি ঢাকায় ফিরে আসলে দলের বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে। তবে আমরা জোটে আছি। আজকে সমন্বয় কমিটির বৈঠক হবে।”
জোটের ভবিষ্যৎ কী, এমন প্রশ্নে নির্বাচনি ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য এখন বিরোধী দলীয় ভূমিকায় যাবে। আজকে সমন্বয় কমিটির বৈঠক হবে। সে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।”