বইমেলা পেছাতে তারেকের `হস্তক্ষেপ` চায় প্রকাশক ঐক্য
অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার যে সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিয়েছে, তা পিছিয়ে ঈদের পরে নিতে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশক ঐক্য।
নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে তারা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত 'নামমাত্র' বইমেলা স্থগিতের নির্দেশনা দিন।
"পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সকল প্রকাশকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।"
চিঠিতে বলা হয়, "এই একটি সিদ্ধান্ত কেবল হাজারো প্রকাশককে দেউলিয়া হওয়া থেকেই বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে, নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।"
চিঠিতে প্রকাশকদের মধ্যে সই করেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ.কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (বাতিঘর প্রকাশনী) মো. মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপির সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), মো. গফুর হোসেন (রিদম প্রকাশনা সংস্থা), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), দীপঙ্কর দাশ (বাতিঘর), মো. জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন), মাহরুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল) ও মাহাবুব রাহমান (আদর্শ)।
চিঠিতে যা লিখেছে প্রকাশক ঐক্য
চিঠিতে প্রকাশকরা লিখেছেন, "গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা।
"এমন এক বাস্তবতায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে 'অমর একুশে বইমেলা ২০২৬' আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।"
মেলা পেছানোর যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, “রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ “
তাদের ভাষ্য, “এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করাটা হবে তাদের জন্য 'ব্যবসায়িক আত্মহত্যার’ শামিল।”
এই অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা, এবং এখানে কোনো 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্য' আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রকাশক ঐক্য।
প্রকাশকরা বলেছেন, "আমরা মেলা বর্জন করতে চাই না, আমরা চাই একটি 'সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা'। আমাদের দাবি ছিল, রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক। যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ-উভয়ই থাকবে।
“কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করে এক প্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।"
তারেক রহমানের কাছে প্রকাশক ঐক্যের প্রত্যাশা, "সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।"
তারেক রহমানের কাছে লেখা এই চিঠির একটি কপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দিয়েছেন ইউপিএলের মাহরুখ মহিউদ্দীন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রথমে বইমেলা এগিয়ে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা একাডেমি।
পরে ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘স্থগিত’ করার কথা জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
পরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ২ নভেম্বর বৈঠকে করে বাংলা একাডেমি নির্বাচনের পরপর ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পরই মেলার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
এরপর বাংলা একাডিমি বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানায়। কিন্তু প্রকাশকরা সেটি পিছিয়ে ঈদের পরে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।