মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ টানার চেষ্টা চলছে: মাহ্দী আমিন
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আনতে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বিকালে কুয়ালা লামপুরে সাংগ্রি-লা হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন একথা জানান।
তিনি বলেন, “দেশে মুক্তবাজারের জন্য আমাদের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই হচ্ছে…এই প্রসিকিউরের ভেতরে আমরা ইকোনমিক লিবারাইলেশনের দিকে যাচ্ছি, ডি- রেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি, যার মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা। মালয়েশিয়া সেই দিক থেকে বড় লক্ষ্যের জায়গা আমাদের দিক থেকে।
“ইতোমধ্যে কিন্তু আমরা এখানে যখন প্রেস কনফারেন্স করছি, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার সবচাইতে পাঁচটি ডিফারেন্ট কোম্পানির সাথে বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলছেন, উনাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশে যেহেতু বড় একটা মার্কেট বেইস রয়েছে, স্বাভাবিকভাবে সেখানে কনজিউমার ডিমান্ডও রয়েছে, যেটিকে উনারা ফুলফিল করতে পারবেন।
“সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং কীভাবে বাড়ানো যায়, প্রোডাকশন কীভাবে বাড়ানো যায়, আমাদের অনেক বড় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট রয়েছে, যার অর্থ আমাদের কর্মসংস্থানের একটা অবারিত সুযোগ রয়েছে।
“একদিকে যেমন আমাদের মার্কেট ডিমান্ড অনেক বেশি, একই সাথে আমাদের এমপ্লয়েজ সাপোর্ট করার মত সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুটো সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করেছি যে, মালয়েশিয়া থেকে যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে আমরা আমাদের সরকার-যতটা সম্ভব নীতিগত সহযোগিতা করব এবং ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে প্রো বিজনেস প্রো ইনভেস্টমেন্ট একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করব।”
মালয়েশিয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পাঁচটি বড় কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, “এসব সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরো বেগবান করা।
“আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন, সেই কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস গ্রুপ, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পেরোদুয়া এবং এম ফোর্স।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তার উপদেষ্টা মাহ্দী বলেন, “এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
“বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেটিকেও মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো কীভাবে শক্তিশালী এবং জোরদার করা যায়, সেটিকে নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রনায়করা সুবিস্তৃত আলোচনা করেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও মালয়েশিয়ার ডেপুটি হাই কমিশার শাহানারা মলিকা।