সোমবার ২২ জুন ২০২৬, আষাঢ় ৮ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক

চাপে স্টারমার, আজই আসতে পারে পদত্যাগের ঘোষণা

 প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২২ জুন ২০২৬

চাপে স্টারমার, আজই আসতে পারে পদত্যাগের ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজ দলের এমপিদের তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আজ সোমবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লেবার পার্টির একাংশ তাঁকে সরিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে দলের নতুন নেতা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল গতকাল রোববার জানান, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং দেশের স্বার্থে যা প্রয়োজন, তিনি সেটিই করবেন।

তবে স্টারমারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

পিটার কাইল বলেন, স্টারমারকে সরানোর জন্য একটি পক্ষ চাপ প্রয়োগ করছে।

কয়েক মাস ধরেই এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত শুক্রবার তাঁর ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

ওই দিন প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টের একটি উপনির্বাচনে জয় পান। এর ফলে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ আরও সহজ হয়েছে।

তবে এর আগে স্টারমার জানিয়েছিলেন, তিনি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

পিটার কাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারমার বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ক্ষতি এড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার লেবার পার্টির কয়েকজন এমপি স্টারমারকে সপ্তাহান্তের মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেন। তা না হলে তাঁকে জোর করে নেতৃত্ব থেকে সরানোর হুমকিও দেওয়া হয়। এর মধ্যে অনেকেই আগে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য দলীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে সংসদীয় দলের অন্তত ২০ শতাংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, যা বর্তমানে ৮১ জন এমপির সমান।

মাত্র দুই বছর আগে স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পায়। দলটি সে সময় ১৭৪টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। তবে এর আগে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের ছয়জন প্রধানমন্ত্রীই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে লেবার পার্টির অবস্থান দুর্বল হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছেও স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমেছে। অন্যদিকে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে।

লেবার পার্টির অনেক এমপির আশঙ্কা, নেতৃত্বে পরিবর্তন না আনলে আগামী নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারাজ জয়ী হতে পারেন।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান