নীলফামারীতে কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
নীলফামারী জেলার চার উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কোথাও কোথাও শিলার আঘাতে ঘরবাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি উড়ে গেছে স্থাপনা।
তবে বৃষ্টির চেয়ে শিলার তোপে মাটিতে নুহে পড়েছে কৃষকের সবুজ খেত। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
শনিবার মধ্যরাতে থেকে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে বলে জানান নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান।
তিনি বলেন, মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
রাত ১২টার পর আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি; সঙ্গে আঘাত হানে শিলাবৃষ্টি। শিলাবৃষ্টিতে কোথাও কোথাও স্তূপ জমে যায়। শিলার আঘাতে টিনের ঘরবাড়িসহ কৃষি জমির ফসল, আলু, গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনেক জায়গায় শিলার আঘাতে গাছের পাতা ঝরে গেছে এবং কাঁচা ফল নষ্ট হয়ে গেছে। বসতবাড়ির টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।
তবে শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জলঢাকা উপজেলায়। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুরত আলী, ছমিল আলী শ্রমিকের বসতঘরের টিন শিলার আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে।
শুধু বসতবাড়িই নয় জেলার বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজা মণ্ডপও ক্ষতিগ্রস্তের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এত তীব্র শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আগে থেকেই লোকসানে আছেন কৃষক। ক্ষতি পোষাতে আবার বেশি দামে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনে ভুট্টা, মরিচ, তামাক ও কলার চাষ করেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে সেই আশার ফসলও মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।
ডিমলা উপজেলার কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু হয়, কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আলুতে আগে ক্ষতি, এখন আবার অন্য ফসলও শেষ।
ডোমার চিলাহাটি এলাকার কৃষক সুমন মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে ছোট ও মাঝারি সাইজের শিলাবৃষ্টিতে কলা ও মরিচের খেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে।
ডিমলা উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়। আগামী কয়েকদিন ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তা করা হবে।