শনিবার ২৮ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১৪ ১৪৩২, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

সংসদে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাট ‘অন্তর্ঘাত’ কি না, তদন্তে কমিটি এই পোশাকে পুলিশ সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ইরানিরা চার সপ্তাহ ধরে ‘ডিজিটাল অন্ধকারে’ সরকার বলছে সংকট নেই: পাম্প কোথাও বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন দেশের পেট্রল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত দৌলত‌দিয়ায় বাসডু‌বি: চতুর্থ দি‌নেও উদ্ধার অ‌ভিযান চলছে প্রায় ৪০ দিনের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রোববার বেড়েছে সোনার দাম, প্রতিভরি ২৩৭০১২ টাকা সৌদি আরবে বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার

জাতীয়

সরকার বলছে সংকট নেই: পাম্প কোথাও বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন

 আপডেট: ১৬:৫৫, ২৮ মার্চ ২০২৬

সরকার বলছে সংকট নেই: পাম্প কোথাও বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; সরকারের এমন আশ্বাসের মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত বিক্রি, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারচালকরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহে অস্বাভাবিকতা এবং ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা মিলিয়ে এক ধরনের অঘোষিত সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রমনা ফিলিং স্টেশনে দুপুরের দিকে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন মৎস্য ভবন পেরিয়ে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

এখানে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ১৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকা মগবাজারের সজীব আল মাসুদ বলেন, কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাইক ঠেলে এখানে আসতে হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকার একটি পাম্পে, যেখানে সীমিত পরিমাণ অকটেন বিক্রি হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা।

অন্যদিকে, মগবাজারের মঈন মোটর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ, কেবল ডিজেল মিলছে। গাড়ি বা মোটরসাইকেলের ভিড় নেই। অলস বসে থাকা কর্মচারীরা জানান, ঈদের আগেই পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। দুয়েকটি বাস ডিজেল নিচ্ছে।

তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান সামির হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী, যিনি মিরপুর থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাননি। রাজারবাগে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল মিলছে। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড় সেখানে। ৫০০ টাকার নিচে সেখানে তেল মিলছে না, তাও অনেকে পাচ্ছেন না।

তেজগাঁও সাতরাস্তার সিটি ফিলিং স্টেশনে কেবল অকটেন বিক্রি হচ্ছে।

গাড়ি-মোটরসাইকেলওয়ালাদের লম্বা লাইন রয়েছে পাম্পটির সামনে। স্টেশনের কর্মচারী কামাল হোসেন জানান, যারা আসছেন সবাইকে তেল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজধানীতে তেলের সংকট প্রকট। কিন্তু ১২০ টাকা দরেই তেল বিক্রি করছেন তারা। 

মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশনেও একই অবস্থা। লম্বা লাইনের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রামগামী এক প্রাইভেটকার চালক আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি চট্টগ্রাম যাবেন। তেলের প্রয়োজন অনেক। পাম্পে মজুদ থাকা সত্ত্বেও তাকে ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি।

পাম্পের কর্মচারীরা জানান, সংকটের কারণে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার অর্থাৎ ১৬ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাচ্ছে না।

এস. আর. এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ফিলিং স্টেশনে অকটেন-পেট্রোল নেই। ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। তশোয়া ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র। সেখানে কয়েকদিন ধরে পেট্রোল-অকটেন নেই। নীলক্ষে-নিউমার্কেট এলাকার বন্ধু ফিলিং স্টেশন বন্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টো পাশের পাম্পে তেল নেই। 

এ পরিস্থিতিতে অনেকেই কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলছেন। নীলক্ষেত এলাকায় তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়া মামুন আহমেদ নামে এক গ্রাহক বলেন, সরকার এক কথা বলছে, পাম্প মালিকরা আরেক কথা বলছে। এর পেছনে মজুতদারির বিষয় থাকতে পারে। মজুতদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। মোটরসাইকেলের ট্যাংক ব্যবহার করে অতিরিক্ত তেল নিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোটরসাইকেলে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ এবং তেল দেওয়ার আগে চালকদের কাগজপত্র দেখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনকে নজরদারির নির্দেশও দিয়েছেন। 

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও দাবি করেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ানো হয়নি। প্রতিদিন দেশে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানির চাহিদা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে ভিজিল্যান্স টিম কাজ শুরু করেছে। কোথাও কোথাও অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ এবং জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব কর্মকর্তা তেল উত্তোলন, মজুদ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং প্রতিদিনের হিসাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেবেন।

সরকার কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করার কথাও জানিয়েছে।