আহসান মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর: বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাই কোর্টে
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে এই রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে।
শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের পদ থেকে আহসান মনসুরকে সরিয়ে দেয় বিএনপি সরকার।
উত্তাপ ছড়ানোর পরিস্থিতির মধ্যে সেদিন অর্থ মন্ত্রণালয় তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
একই দিন আরেকটি আদেশে নতুন গভর্নর হিসেবে পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।
রিট আবেদনে ওই দুটি প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিতের নির্দেশনার পাশাপাশি এগুলো কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী গভর্নরের পদটি একটি সংবিধিবদ্ধ পদ। এই আইনের ১৫(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কারণ (যেমন- স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, বিশ্বাসভঙ্গ বা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কাজ) ছাড়া কোনো গভর্নরকে অপসারণ করা যায় না।
কিন্তু আহসান মনসুরকে অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো কারণ দেখানো হয়নি, কোনো তদন্ত হয়নি এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের ‘সম্পূর্ণ পরিপন্থি’।
রিট আবেদনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে বলা হয়েছে, এই অপসারণ ছিল ‘আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত’।
অন্যদিকে, নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১০(৯) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নতুন গভর্নরের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এম. সারওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “নতুন যিনি গভর্নর হয়েছেন, তিনি স্পষ্টভাবে একজন লোন ডিফল্টার (ঋণ খেলাপি)। পত্রিকায় বেরিয়েছে, বর্তমান এই গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক লুটপাটকারী এস আলমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ও যোগসাজশ রয়েছে।
“ধারণা করা হয়, এস আলম ম্যানিপুলেট করে তাকে এইখানে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করতে সমর্থ হয়েছে।”
গণঅভ্যুত্থানের পর এ ধরনের নিয়োগ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে এই আইনজীবী বলেন, “এই ধরনের একজন লোককে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ করার অর্থ হল, শুঁটকির পাহারাদার হিসেবে বিড়ালকে বসানো।
“তিনি গভর্নর হওয়ার সাথে সাথে কোনো একটি ব্যাংকে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন এবং জানা যায়, তার বাবার একটি ইন্ডাস্ট্রিতে ৮০০ কোটি টাকা লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।”
সরকারকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সারওয়ার হোসেন বলেন, “আইনে স্পষ্ট আছে, কোনো গভর্নরকে সরাতে হলে তার অদক্ষতা ও অক্ষমতা দেখাতে হবে। আর নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে কেউ ঋণ খেলাপি হলে, তাকে নিয়োগ দেওয়া যায় না।”
তিনি বলেন, “আমরা দেখতে চাই না, আগে যেমন ডি-গ্রেড বা এফ-গ্রেডের কোনো গভর্নর ছিল, তেমন কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকুক। ৫ অগাস্টের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে সুযোগ এসেছে, সেখানে সাংবিধানিক ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য, দক্ষ এবং সৎ লোকদের নিয়োগ দিতে হবে।
“আমরা আশা করব, আদালতে শুনানির পর এই অপসারণ ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করা হবে।”