বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৩০ ১৪৩২, ২৪ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

পাড়া-মহল্লায় ভোট উৎসব, সুনসান ঢাকার সড়ক

 আপডেট: ১২:০২, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পাড়া-মহল্লায় ভোট উৎসব, সুনসান ঢাকার সড়ক

ভোরের আলো ফুটতেই পাড়া-মহল্লার ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা শুরু হয়, সঙ্গে ছিল বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান।

সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরুর আগেই কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকার পাড়া-মহল্লার ভোটকেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।

কোথাও কোথাও হোটেল-রোস্তোরাঁ বাদে বেশিরভাগ দোকানপাটই রয়েছে বন্ধ। কেন্দ্র ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

প্রথম দফার ভোটারদের চাপ শেষের পর কেন্দ্রগুলোতে ক্রমেই আসছেন এলাকার লোকজন, প্রার্থীদের বুথ থেকে ভোটার নম্বর জেনে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন তারা।

শ্যামলীর বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সামনে ভোট দিতে অপেক্ষমান ছিলেন মিরপুর থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবী তরিকুল।

তিনি বলেন, “যখন আমি ভোটার হই, তখন এই এলাকায় ছিলাম; এখন মিরপুরে থাকি। আজ তাই ভোট দিতে মিরপুর থেকে এখানে আসতে হয়েছে।"

সড়কে গাড়ি চলাচল না থাকলেও মেট্রোরেল ও রিকশায় করে ভোট দিতে আসতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি।

পঞ্চাশোর্ধ এই ভোটারের ভাষায়, একজন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া 'অন্যতম দায়িত্ব'। সেই দায়িত্ব পালন করতে এসে তার 'ভালোই লাগছে'।

এদিকে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সুনসান নীরবতা দেখা গেছে ঢাকার সড়কে। সব সড়কেই রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট।

সড়কে জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচল নেই বললেই চলে।

ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে আশেপাশের সড়কে মানুষের চলচাল থাকলেও প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা।

এদিকে ভোটারদের যাওয়া-আসার সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক প্রার্থীদের পক্ষ থেকে রয়েছে অটোরিকশার ব্যবস্থা। নির্ধারিত প্রার্থীদের ব্যানার টানিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে আবার ভোট শেষে বাসায় নামিয়ে দিতে সেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর এলাকায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের পক্ষ থেকে ভোটার আনা-নেওয়ার কাজ করছেন অটোরিকশা চালক মো. পারভেজ।

কথা বলতেই তার জিজ্ঞাসা, ‘কোন কেন্দ্রে যাবেন?’ 

এরপর জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভোট চলা পর্যন্ত ভোটার আনা নেওয়ার চুক্তি হইছে। সারাদিন চলব। অন্য মার্কারও রিকশা আছে।"

সারাদিনের জন্য ১২০০ টাকায় তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে জানালেও প্রার্থীর পক্ষে মোট কতোটি রিকশা চলাচল করছে সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি।

তার ভাষ্য, “অনেক রিকশাই আছে, একেক এলাকায় একেক রকম।"

ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমান সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। আনসার ও পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন প্রতিটি কেন্দ্রে।

এর বাইরে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যদের টহল টিম দেখা গেছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিভিন্ন বাহিনীর তল্লাশিচৌকিসহ রয়েছে টহল টিম। এর বাইরে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কোথাও চলছে সমন্বিত টহল।

দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।