বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৫ ১৪৩২, ০৯ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

রোডম্যাপ অনুসারে হজের সব কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন ভারত থেকে বেনাপোলে এল ৫১০ টন চাল, কেজি ৫০ টাকা নিয়োগ সুপারিশ পেলেন সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী, খালি থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অর্ধলক্ষাধিক পদ শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া ৬ কৃষক ‘অপহৃত’ জামায়াত ৫ তারিখের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে দুঃখকষ্ট পাওয়া দল: শফিকুর খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে ভারতের রাজ্যসভা ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমূখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার নিহত যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতকালীন ঝড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু ভেনেজুয়েলার জব্দ অর্থ ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ১২

জাতীয়

গুলি করে হত্যা: এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই জনকে যাবজ্জীবন

 প্রকাশিত: ১৬:০৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

গুলি করে হত্যা: এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই জনকে যাবজ্জীবন

প্রায় ১১ বছর আগে জুরাইনের ঋষিপাড়ায় সোহেল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় রবিন ওরফে ট্যারা রবিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সেই সঙ্গে এ মামলার আসামি রিপন ও মাসুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. খোরশেদ আলম বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিলন হোসেন জানান, রবিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম দেওয়া হয়েছে।

আর রিপন ও মাসুদকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আসামিদের মধ্যে কেবল রবিন গ্রেপ্তার ছিলেন। রায়ের সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রিপন ও মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এ মামলার অপর দুই আসামি ‘পিয়ারীর পোলা রবিন’ ওরফে রবিন-২ এবং তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন। তারা মামলার শুরু থেকে পলাতক।

সোহেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ হিসেবে বর্ণনা করে রায়ের পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেন, "পরিবার এমন হত্যাকাণ্ড প্রত্যাশা করে না। ইন্টারনেটের যুগে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বকে নাড়া দেয়। আদালত মনে করে, অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজায় প্রাপ্য।"

মামলার বিবরণে জানা যায়, সোহেল কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে দর্জির দোকানে কাজ করতেন। ‘অসৎ সঙ্গে’ জড়িয়ে পড়ায় মা সুফিয়া বেগম তাকে প্রায় পাঁচ মাস ‘সেইফ কাস্টডি’তে রাখেন।

২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে সে বের হয়। রবিনসহ অন্যরা সোহেলকে আবার ‘বিভিন্ন অপকর্মের’ প্রস্তাব দেয়। তবে সে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে হুমকি দিতে থাকে।

১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় মসজিদের সামনে একটি খাবার হোটেলে ফুফাতো ভাই মিরাজের সঙ্গে বসে ছিলেন সোহেল। সেদিন বিকাল ৩টার দিকে রবিনসহ অন্যরা তাকে ডেকে ঋষিপাড়ায় একটি একতলা বাসার ছাদে নিয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, “রবিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে কপালে গুলি করে। পেটে, বুকে, গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।”

এ ঘটনায় সুফিয়া বেগম ওই দিনই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম।

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জনের সাক্ষ্য শোনে।

মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল আদালত।