শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
১০ বছর আগে গোপালগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার ২৩ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় হওয়ায় তাদের বিচার গোপালগঞ্জে শিশু আদালতে চলছে।
আর এক আসামি বিচারচলাকালে মারা গেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ। এ ছাড়া মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলীমুজ্জামান বিটু এবং প্রিন্স খাঁ।
আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।
এ ছাড়া আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম শরীফুল ইসলাম। কিনি বলেন, 'আশা করছি, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।'
২০১৬ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় একদল হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাপগঞ্জ সদর থানার এসআই হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।