মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৭ ১৪৩২, ০১ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে হাদির পরিবার, ১ কোটি টাকা বরাদ্দ জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি মা-মেয়ে খুন: শিক্ষিকা মিমের স্বামী ৩ দিনের রিমান্ডে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য জনগণের কাছে অর্থ সহায়তা চায় এনসিপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ‘দেখছে না’ ইসি পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: আবেদ আলী জীবনের ছেলে সোহানুর রহমান গ্রেপ্তার ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ফের গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ড দিতে হবে না: দূতাবাস কুমিল্লা-২: হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত, ইসির সীমানা বহাল শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, চেম্বার আদালতে যাবে প্রশাসন মানবতাবিরোধী অপরাধ: চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় পেছাল করাচির শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ২৩, নিখোঁজ ৩৮

ইসলাম

ভারতবর্ষে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব

 প্রকাশিত: ১৭:৩২, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতবর্ষে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব

প্রতিটি জাতি ও সম্প্রদায়ের ইতিহাসে সংকটকাল আসে। যখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাদেরকে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়। মেধার স্বাক্ষর রাখতে হয় এবং সুপ্ত প্রতিভা ব্যবহার করতে হয়। এই সংকট তাদের ভেতর স্পৃহা ও জাগরণ তৈরি করে। যে সম্প্রদায় সংকটের ভেতর দিয়ে যায় না তাদের ওপর আস্থা ও ভরসা রাখা যায় না। বরং তা তাদেরর চেতনার মশাল নিভিয়ে দেয়, আত্মবিস্তৃত ও বিলাসী করে তোলে। 

বর্তমানে ভারতীয় মুসলিমরা একটি সংকটকাল কাটাচ্ছে এবং তারা এই সংকট সমাধান ও অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। কিছু তাদের ভুলের ফসল; আর কিছু অতীত ব্যর্থতা, চিন্তা ও রাজনৈতিক বিরোধের ফল। কিছু সংকট তৈরি হয়েছে সেসব ঘটনা ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যার ভেতর দিয়ে অতীতে ভারতকে যেতে হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই এসব সংকট সাময়িক, আপদিত। শীঘ্রই এর সমাধান হবে যদি ভারতীয় মুসলিমরা ধৈর্য ও সহনশীলতার ওপর অটল থাকে এবং তারা বিষয়গুলো প্রজ্ঞা, ধীরস্থিরতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মোকাবিলা করে। আর তারা লাভ করে সুপথের অধিকারী, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাহসী নেতৃত্ব। এখানে আমরা ভারতীয় মুসলিম সমাজের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলো উল্লেখ করব।

ভারতীয় মুসলিম সমাজের সংকটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংকট হলো ইসলামী দাওয়াতের সংকট। সবাই জানে ইসলাম ধর্ম দাওয়াত ও সুসংবাদের। ভারতের যেসব মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা একনিষ্ঠ দ্বিন প্রচারক সুফি, পীর, আলেম ও ব্যবসায়ীদের প্রচষ্টোতেই বেশি মুসলিম হয়েছে। নবদীক্ষিত মুসলিমদের সংখ্যা সেসব মুসলমানের চেয়ে বেশি যারা ইসলামের আদিভূমি তথা আরব উপদ্বীপ, ইরান, তুর্কিস্তান ইত্যাদি অঞ্চল থেকে ভারতে আগমন করেন। প্রত্যেক যুগেই ইসলামের একনিষ্ঠ দাওয়াত তার শরীরে নতুন রক্ত ও শক্তি সৃষ্টি করেছে। ভারতে দ্বিন প্রচারকারী ইসলামী সমাজ এমন একটি নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করেন যারা পরবর্তী সময়ে নিজের মেধা-প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এমনকি ভারতের বহু অভিজাত ও প্রভাবশালী পরিবার 'যারা তাদের প্রতিভা ও প্রতিপত্তির জন্য পরিচিত ছিল তারা বৃহত্তর ইসলামী পরিবারে সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু বিখ্যাত ব্যক্তি ও মনীষীর বংশধারার নিকটতর ও দূরতম স্তরে হিন্দু পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। নিকট অতীতের এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন 'তুহফাতুল হিন্দ' গ্রন্থকার মাওলানা উবায়দুল্লাহ পটিয়ালভি (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, শায়খ সানাউল্লাহ অমৃতসরি, মাওলানা আহমদ আলী লাহোরি। খুব কমসংখ্যক মুসলিমই জানে যে তারা ইসলাম গ্রহণকারী পরিবারের সদস্য বা আল্লাহ তাদের অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। ফলে নিজেই মুসলিম হন। 

মুসলিম শাসনের শেষ ভাগ ও ইংরেজ শাসনের শুরু ভাগ পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারের ধারা অব্যাহত থাকে এবং তা সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অমুসলিমদের স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করত। কেননা ইসলাম যুক্তিযুক্ত ও প্রজ্ঞাময় ধর্ম। এতে আছে নিষ্কলুষ একত্ববাদী বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা, সমতা। ইসলামে নেই শ্রেণি বৈষম্য ও ছুত-অচ্ছুতের বালাই। কোরআন, নবীজি (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামের মহান শিক্ষা মানুষের অন্তদর্ৃষ্টি খুলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনাকে আলোকময় করে। যদি ইসলাম প্রচারের স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকত তবে এই সম্ভাবনা ছিল যে মুসলিমরা ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় গোষ্ঠিতে এবং এশিয়ায় সর্ববৃহৎ শক্তিতে পরিণত হবে।